• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৭:১২ পিএম


ফ্যাটি লিভার কমাতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৮ খাবার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ নভেম্বর ২০২৬ ৬:২৬ এএম

ফ্যাটি লিভার বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। অল্প বয়সেও অনেক মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যকৃতে প্রদাহ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে এই প্রদাহ চলতে থাকলে পরবর্তী সময়ে সিরোসিস, এমনকি ক্যানসার হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে হেপাটাইটিস ভাইরাসজনিত লিভার সিরোসিসের তুলনায় ফ্যাটি লিভার থেকে সৃষ্ট সিরোসিসের প্রবণতা বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভার আরও বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজের প্রকোপ বেশি। স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবকে এর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে জীবনযাপনে পরিবর্তন আনা ছাড়া কার্যকর কোনো বিকল্প নেই।

সাধারণত অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস, রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, উপকারী কোলেস্টেরল বা এইচডিএল কম থাকা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির বিপাকপ্রক্রিয়ায় সমস্যার কারণে যকৃতে অতিরিক্ত চর্বি জমে।

এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই তিনটির মধ্যে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বিশেষভাবে জরুরি। কিছু খাবার যকৃতের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এবং চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে। এমন আটটি খাবার হলো—

১. সবুজ শাকসবজি

সবুজ পাতাযুক্ত শাকসবজিতে থাকা পলিফেনল ও নাইট্রেট যকৃতে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়তা করে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শাকসবজি অতিরিক্ত রান্না বা সেদ্ধ করলে এর পলিফেনলের পরিমাণ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

এ কারণে সেদ্ধ করার পর সেই পানি ফেলে না দিয়ে ব্যবহার করা কিংবা সম্ভব হলে কাঁচা সালাদ হিসেবে সবুজ শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খাদ্যতালিকায় শাক, লেটুসসহ বিভিন্ন ধরনের সবুজ পাতাযুক্ত সবজি রাখা যেতে পারে।

২. ডাল ও বীজজাতীয় খাবার

ডাল, ছোলা ও মটরশুঁটির মতো খাবারে প্রচুর স্টার্চ ও খাদ্যআঁশ থাকে। এসব খাবার পরিপাকতন্ত্রের জন্য উপকারী। একই সঙ্গে রক্তে ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতেও সহায়তা করতে পারে।

সয়াপ্রোটিন ও টফুও ফ্যাটি লিভারের জন্য উপকারী। সয়াতে থাকা বিটা-কনগ্লাইসিন ট্রাইগ্লিসারাইড ও ভিসেরাল ফ্যাট কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ই, যা যকৃতের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো।

৩. সামুদ্রিক মাছ

ইলিশ, রূপচাঁদা, টুনা, স্যামন ও সার্ডিনের মতো ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ মাছ যকৃতের জন্য উপকারী। এসব মাছ রক্তে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের মাত্রা বাড়াতে এবং ক্ষতিকর ট্রাইগ্লিসারাইড কমাতে সহায়তা করে। এর ফলে যকৃতে চর্বি জমা ও প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন মাছ খাওয়া উচিত।

৪. ওটস ও জটিল শর্করাজাতীয় খাবার

ফ্যাটি লিভার নিয়ন্ত্রণে খাদ্যতালিকায় জটিল শর্করাজাতীয় খাবার রাখা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ওটমিল, লাল আটার রুটি কিংবা যবের রুটি খাওয়া যেতে পারে। এসব খাবার স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

৫. আখরোট

আখরোটে রয়েছে গ্লুটাথিয়ন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং আরজিনিন। এসব উপাদান যকৃতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে। শরীর থেকে ক্ষতিকর অ্যামোনিয়া ও বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণেও এগুলো ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি যকৃতের ভেতরের প্রদাহ ও অতিরিক্ত চর্বি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

প্রতিদিন সকালে চার থেকে পাঁচটি ভেজানো অথবা শুকনো আখরোট খাওয়া যেতে পারে। তবে এর বেশি না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৬. বিট

বিটে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, খাদ্যআঁশ ও নাইট্রেট। এসব উপাদান পিত্তরস তৈরিতে সহায়তা করে এবং বিভিন্ন উৎসেচকের কার্যকারিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি অক্সিডেটিভ স্ট্রেস প্রতিরোধের মাধ্যমে যকৃতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে।

৭. লেবু ও ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল

আমলকি, পেয়ারা ও লেবুর মতো ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দিতে সহায়তা করে। এসব ফল যকৃতকে বিষমুক্ত রাখার প্রক্রিয়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল রাখা যেতে পারে।

৮. মসলা

কাঁচা হলুদ ও কাঁচা রসুনও যকৃতের জন্য উপকারী হতে পারে। কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন এবং কাঁচা রসুন যকৃতের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি কমাতে শুধু নির্দিষ্ট কিছু খাবার খেলেই যথেষ্ট নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ব্যায়ামের ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

/এসএন