ভয়াবহ ভূমিকম্পের চার দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তি ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকারীরা। রোববার (২৮ জুন) রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরের কারাবালেদা শহরে এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়।
এদিকে গত সপ্তাহে পরপর ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩ হাজার ১৫০ জন। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা এএফপির সাংবাদিকরা জানান, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কারাবালেদা শহরে ফরাসি ও মার্কিন উদ্ধারকারী দল ধসে পড়া ভবনের নিচ থেকে চার দিন পর বাবা ও তার কিশোর ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে। ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে এলাকাটির প্রায় ২০০টি ভবন সম্পূর্ণ ধসে গেছে।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জীবিত মানুষ উদ্ধারে সফল হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘আজও আমরা জীবিত মানুষ উদ্ধার করেছি। তাই এই উদ্ধার অভিযান বন্ধ করা হবে না। আমরা সবসময় আশা ধরে রাখি।’
উদ্ধার অভিযানের এই সাফল্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিলেও দেশটিতে এখনো কয়েক হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কমে আসছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত লাখো মানুষ এখনো বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী থেকে বঞ্চিত। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ও ওষুধের সংকটও দেখা দিয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্বজনদের খুঁজে পেতে অনেক স্থানীয় বাসিন্দাকেও খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা গেছে।
রোববার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ জানান, ভূমিকম্পে ৭৭৪টি ভবন গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরনগরী লা গুয়াইরায় লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই ধীরগতিতে পৌঁছাচ্ছে।
মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হেলিকপ্টারের মাধ্যমে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে আরও ২৩০ জন মার্কিন সামরিক সদস্য ভেনেজুয়ায় পৌঁছেছেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, এই দুর্যোগে সর্বোচ্চ ৬৭ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আশ্রয়, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও ত্রাণসামগ্রী প্রয়োজন।
এদিকে নির্বাসিত বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘সময় এসে গেছে। আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে, শোক ভাগাভাগি করতে হবে এবং এই কঠিন সময়ে একে অপরকে শক্তি জোগাতে হবে।’
সূত্র: এএফপি, বাংলানিউজ
/এএসএফ