• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৩:০১ এএম


নিখোঁজের ৯ দিন পর কাস্টমস কর্মীর ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার, কেয়ারটেকার নিখোঁজ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ১:০৫ এএম

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় নিখোঁজের নয় দিন পর কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখার কর্মী রাকিব রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরা খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ব্যাগ ও একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় এসব দেহের খণ্ড উদ্ধার করা হয়।

রাকিব রায়হান নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়ির কেয়ারটেকার (দেখভালকারী) রাজু মির্জাও নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁকে ঘিরে সন্দেহের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

আজ রোববার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে রাকিবের মরদেহের খণ্ডগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব রায়হান ওই গ্রামের মৃত ছিদ্দিক তালুকদারের ছেলে। তাঁর মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকার কমলাপুরে কাস্টমসের নিরাপত্তা শাখায় সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রাকিব বিবাহিত ছিলেন। তবে কয়েক বছর আগে তাঁর সঙ্গে স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়। তিনি প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বাড়িতে আসতেন এবং শনিবার কর্মস্থলে ফিরে যেতেন। গত ২৩ জুলাই তিনি বাড়িতে এসেছিলেন। ওই দিন রাতে বড় ভাই নূরুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর শেষবার কথা হয়। পরদিন ২৪ জুলাই বিকেল থেকে তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাকিব একই এলাকায় একটি আলাদা বাড়িতে থাকতেন। ওই বাড়ির দেখভালের জন্য একজন কেয়ারটেকার নিয়োজিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, রাকিব কর্মস্থলে ফিরে গেছেন। কিন্তু ২৬ জুলাই তিনি কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হন যে তিনি নিখোঁজ। এ সময় তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়।

এরপর সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়। পরে ২৭ জুলাই রাতে রাকিবের বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়িয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডি করার পরদিন, ২৮ জুলাই থেকে রাকিবের বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জাও নিখোঁজ হন। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ তাঁর অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে। পাশাপাশি রাকিবের সন্ধানে অভিযান চালানো হয়।

আজ দুপুরে রাকিবের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত পুকুরে সন্দেহজনক কয়েকটি ব্যাগের সন্ধান পায় পুলিশ। এর আগে রোববার সকাল থেকেই ওই এলাকায় বিভিন্ন বাগান ও সন্দেহজনক স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল।

পুলিশ জানায়, একপর্যায়ে পুকুরে থাকা ব্যাগগুলো উদ্ধার করে খুললে ভেতরে মানুষের দেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়া যায়। পরে আরও অনুসন্ধান চালিয়ে তিনটি ব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মোট ১৫ টুকরা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ফুলবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাশেদুল হাসান বলেন, হত্যার পর রাকিব রায়হানের মরদেহ ১৫ টুকরা করা হয়। পরে সেগুলো তিনটি ভ্রমণ ও স্কুলব্যাগ এবং একটি বিছানার চাদরে ভরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়।

রাশেদুল হাসান প্রথম আলোকে বলেন, রাকিবের নিখোঁজের ঘটনায় জিডি হওয়ার পর থেকেই তাঁর বাড়ির কেয়ারটেকার রাজু মির্জা আত্মগোপনে রয়েছেন। এ কারণে তাঁকে ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তবে হত্যার কারণ কী, এ ঘটনায় কতজন জড়িত এবং তাঁদের পরিচয় কী—এসব নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।