সিলেটে রাতে বন্ধুদের সঙ্গে চায়ের দোকানে আড্ডা দিতে দিতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। তাঁর সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খবর পেয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা ওই চায়ের দোকানে গিয়ে শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করেন। তাঁর কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের পাশের একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনা ঘটে।
জব্দ করা উত্তরপত্রগুলো সিলেটের মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক ইকবাল হোসেনের (সোহান)। তিনি সিলেট মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের একজন পরীক্ষক।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন প্রথম আলোকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ইকবাল হোসেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে এইচএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়ন করছিলেন ইকবাল হোসেন। এ সময় তাঁর বন্ধু ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহসভাপতি আইরিন লিনজাসহ আরও দুজন তাঁর সঙ্গে খাতা দেখছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দোকানে তখন এক বস্তা উত্তরপত্র ছিল।
এর আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একই চায়ের দোকানে বসে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
চায়ের দোকানদার ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাতে আমি দোকান গোছাইতেছিলাম। তারা পেপার দেখতেছিল ভেতরে। এ সময় শিক্ষকেরা (শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা) এসে তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তারা সবাই চলে গেছে। তারপর আমি দোকান লাগিয়ে চলে গেছি।’
ফজলুল হক আরও বলেন, ওই পরীক্ষক ও তাঁর সহপাঠীরা শুক্রবার রাতেও তাঁর দোকানে এসেছিলেন। তাঁরা নিয়মিত সেখানে চা পান করতে ও আড্ডা দিতে আসতেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেনকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড। তবে তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা রাতে গিয়ে চায়ের দোকানে খাতা দেখা অবস্থায় ওই পরীক্ষককে ধরি। সেখান থেকে ৪০০ খাতা জব্দ করা হয়েছে। এখন তিনি আমাদের হেফাজতে আছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ইকবাল হোসেনের বন্ধু আইরিন লিনজা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার থেকে তো খাতা জব্দ করে নাই। আমি এখানকার আসলে কিছুই না। আমি এক্স সাস্টিয়ান। একজন খাতা আনছিল, উনিই শিক্ষক। এখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি তাঁর সঙ্গে ছিলাম। সে আমার বন্ধু ও ব্যাচমেট।’
চায়ের দোকানে উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগে একজন শিক্ষককে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন সিলেটের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব। তিনি বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষককে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যান।