• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম


‘সমকামী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগের তদন্ত, শহীদুল্লাহ হলে উত্তেজনা-সংঘর্ষ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩ আগস্ট ২০২৬ ১:০০ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ইব্রাহীম খলিলের কক্ষে থাকা দুজন অতিথির বিরুদ্ধে ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত থাকার অভিযোগের তদন্তকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আজ রোববার বিকেলে হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছে। উভয় পক্ষের দাবি, সংঘর্ষে তাদের কয়েকজন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘সমকামী কর্মকাণ্ডে’ জড়ানোর অভিযোগের পর হল কর্তৃপক্ষ যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল, তার কার্যক্রম চলার সময় প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

শহীদুল্লাহ হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোছাদ্দিক আল হক (শান্ত) প্রথম আলোকে বলেন, সমকামিতাকে প্রমোট করতে গিয়ে ছাত্রশিবির বিভিন্নভাবে হল সংসদের এজিএসকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে এবং এ জন্য নানাভাবে মিথ্যাচার করছে। তাঁর অভিযোগ, আগের দিন সিসিটিভির ফুটেজ মুছে ফেলা হয়েছে, যাতে ওই সময়ে এজিএস সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না, তা প্রমাণ করা না যায়। বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচারের মাধ্যমে শিবির নিজেদের পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মোছাদ্দিক আল হক বলেন, একপর্যায়ে ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা প্রভোস্ট অফিসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেন। ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরাও সেখানে অবস্থান নেন। পরে শিবিরের নেতা-কর্মীরা তাঁদের ওপর হামলা চালান। তখন তাঁরা বাইরে ছিলেন। পরে ভেতরে প্রবেশ করলে আবারও তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছেন শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) তৌকির হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় হল কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে তাঁরা তদন্তে অংশ নিতে যান। তদন্তের জন্য হল সংসদের এজিএস ও তাঁর রুমমেটকে ডাকা হয়েছিল। তদন্ত শুরু হওয়ার পরপরই ছাত্রদলের দুই সদস্য তদন্ত কমিটির বৈঠক চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ে যান। সেখানে উপস্থিত হাউস টিউটররা সবাইকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন।

তৌকির হাসান আরও বলেন, এরপর ছাত্রদলের সদস্যরা প্রভোস্ট অফিসের সামনে অবস্থান নেন এবং তাঁরা দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করেন। এ সময় ছাত্রদল অভিযোগ করে, ছাত্রশিবিরের এক সদস্য তাঁদের ছবি তুলেছেন। এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ওই সদস্যের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে তাঁরা সবাই প্রাধ্যক্ষের কক্ষে আশ্রয় নেন। সেখানে কী ঘটছে, তা ধারণ করার জন্য আবার ভিডিও করা হলে সেটিকে কেন্দ্র করেও ছাত্রদলের সদস্যরা ফের হামলা চালান।

ঘটনাস্থলে পাঁচজন হাউস টিউটর উপস্থিত থাকলেও তাঁদের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ করেন তৌকির হাসান।

এ ঘটনার পর শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আমিনুল ইসলাম ভূঞা তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছে ছাত্রশিবির ও ছাত্রদল—উভয় পক্ষই। তবে এ বিষয়ে জানতে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন প্রথম আলোকে বলেন, শহীদুল্লাহ হলে দুই পক্ষের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। হল প্রাধ্যক্ষ বিষয়টি জানানোর পরপরই সহকারী প্রক্টরদের নিয়ে একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।

ইসরাফিল রতন বলেন, ‘আমরা তো পুলিশ নই, তারপরও দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি মোটামুটি শান্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত কার্যক্রম চলছে বলে আমার জানা আছে।’

হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষের পদত্যাগের বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে তিনি এখনো নিশ্চিত নন।