• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ১১:৩০ পিএম


নেপালে বড় পরিবর্তনের পথে বালেন্দ্র শাহের সরকার

The Pulse BD online news desk
আপডেট টাইম: ৩১ মার্চ ২০২৬ ৫:৩৯ পিএম

সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষকদের রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়া নিষিদ্ধ। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রথাগত পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কাঠমান্ডুর প্রেসিডেন্ট ভবন শীতল নিবাসে শুক্রবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বালেন্দ্র শাহকে শপথবাক্য পাঠ করান নেপালের প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে গেছে নেপালে। জেন–জি আন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে নেপালের কনিষ্ঠতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। শপথের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই শাসনব্যবস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে ১০০ দফার উচ্চাভিলাষী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন তিনি। বালেন্দ্র শাহর পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে কয়েকটি সিদ্ধান্ত যেমন প্রশংসা পেয়েছে, তেমনি কয়েকটি বিতর্কের মুখেও পড়েছে। বালেন্দ্র শাহ প্রশংসা পেয়েছেন মন্ত্রিসভায় নারী সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে। নতুন মন্ত্রিসভার গঠন নেপালের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। বালেন্দ্র তাঁর ১৫ সদস্যের মন্ত্রিসভায় পাঁচজন নারী মন্ত্রী নিয়োগ করেছেন। এর মাধ্যমে নেপালের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়েছে, যা দেশটির সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণে একটি বড় পদক্ষেপ। এই নারী মন্ত্রীদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলো দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আইন, কৃষি, জনপ্রশাসন, বিচার ও সংসদবিষয়ক, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা এবং নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়। বালেন্দ্রর সংস্কার সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত হয়ে দাঁড়িয়েছে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণ। তরুণ প্রজন্মের নেতা হলেও তাঁর এ সিদ্ধান্ত তরুণদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ রাজনীতিতে অনেকটাই নবীন। র‍্যাপার হিসেবে পরিচিত বালেন্দ্র ৫ মার্চের নির্বাচনে ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ থেকে অংশ নেন। এ দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পর বালেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জনমনে চরম অসন্তোষ এবং দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তরুণদের গড়ে তোলা আন্দোলনের ওপর ভর করেই তাঁর এই উত্থান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই নেপালের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক খোলনলচে বদলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।