• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৪ এএম


‘আমার চেয়েও বড় হবে’—ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় স্বপ্ন রোনালদোর

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ আগস্ট ২০২৬ ১:৩৯ পিএম

ফুটবল কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিশ্বাস করেন, তার বড় ছেলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জুনিয়র ভবিষ্যতে শারীরিক গড়নে তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে। বর্তমানে ১৬ বছর বয়সী রোনালদো জুনিয়র ইতোমধ্যেই একই বয়সে থাকা বাবার চেয়ে কিছুটা লম্বা ও শক্তিশালী বলে জানিয়েছেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তবে তার মতে, একজন ফুটবলারের সফলতার জন্য শারীরিক সক্ষমতার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সাফল্য অর্জনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।

আল-নাসরের একাডেমিতে ছেলের অনুশীলন দেখতে গিয়ে রোনালদো তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।

ছেলের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সে ভালো ছেলে। সৎ, ভালো ছেলে।’ এরপর পরিবারের অন্য সন্তানদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘অন্যরা একটু বেশি কঠিন। যারা আমার বাড়িতে আছে, ছোটগুলো। এই ছেলেকে নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। অন্যরা হলো…’

নিজের ১৬ বছর বয়সের সঙ্গে ছেলের বর্তমান শারীরিক গড়নের তুলনা করে রোনালদো বলেন, ‘আমি যখন তার বয়সী ছিলাম, তখন সে আমার চেয়ে একটু বড় এবং শক্তিশালী। আমি ছোট ছিলাম। আমার মনে হয়, সে আমার চেয়েও বড় হবে।’

তবে শুধু শারীরিক গঠন নয়, সাফল্যের আসল ভিত্তি হিসেবে তিনি দেখছেন মানসিক দৃঢ়তাকে। এ বিষয়ে রোনালদোর মন্তব্য, ‘ক্ষুধাটাই সবচেয়ে কঠিন।’

ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই রোনালদো জুনিয়র বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের প্রশিক্ষণ পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। জুভেন্টাস ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে সময় কাটানোর পর বাবার সৌদি আরবে যোগ দেওয়ার পর তিনি আল-নাসরের যুব দলে যুক্ত হন।

২০২৫ সালে তিনি পর্তুগালের অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। এরপর ২০২৬ সালে জায়গা করে নিয়েছেন দেশটির অনূর্ধ্ব-১৬ দলেও।

বিশ্বমানের কোচিং ও অনুশীলনের সুযোগ পেলেও রোনালদো জুনিয়রের ওপর প্রত্যাশার চাপও কম নয়। কারণ, তার বাবা ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির লিগ শিরোপা জয়ের পাশাপাশি পাঁচবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতার মর্যাদা অর্জন করেছেন।

রোনালদো মনে করেন, তার নিজের সাফল্যের পেছনে কেবল প্রতিভা নয়, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং প্রতিনিয়ত নিজেকে উন্নত করার মানসিকতা সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। ছেলের ক্ষেত্রেও তিনি একই মানসিকতার গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তার ভাষায়, শারীরিক শক্তি বৃদ্ধি কিংবা ফুটবল দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব হলেও সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় তীব্র আকাঙ্ক্ষা বা ‘ক্ষুধা’ তৈরি করাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

সামনের দিনগুলোতে রোনালদো জুনিয়রের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে বাবার বিশাল সাফল্যের ছায়া থেকে বেরিয়ে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলা। একই সঙ্গে প্রতিনিয়ত নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার মানসিকতা ধরে রাখাই তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্পোর্টিং লিসবনের তরুণ প্রতিভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে কঠোর পরিশ্রম ও অদম্য মানসিকতার মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকায় পরিণত হয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এখন তার ছেলে সেই পথ কতটা সফলভাবে অনুসরণ করতে পারেন, সেটিই দেখার অপেক্ষা।

/এসএন