• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ এএম


আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড ম্যাচে লাল কার্ড দেখানো ভুল সিদ্ধান্ত ছিল: আইএফএবি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৮ জুলাই ২০২৬ ৯:৩২ পিএম

২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এম্বোলোকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না বলে জানিয়েছে ফুটবলের আইন প্রণয়নকারী সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) প্রকাশিত এক সার্কুলারে আইএফএবি জানায়, ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর সহায়তায় এম্বোলোকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোর যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ফুটবলের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বৈধ ছিল না।

কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত ওই কোয়ার্টার ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলায় আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ১-১ সমতায় ছিল। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের চ্যালেঞ্জে বক্সের কাছে পড়ে যান এম্বোলো। তখন ম্যাচের রেফারি জোয়াও পিনেইরো প্রথমে পারেদেসকেই হলুদ কার্ড দেখান।

পরে ভিএআর রেফারিকে জানায়, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। সেই তথ্য পাওয়ার পর পিনেইরো নিজের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এম্বোলোকে অভিনয়ের অভিযোগে হলুদ কার্ড দেখান। এটি ছিল সুইস ফরোয়ার্ডের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। ফলে তাকে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ে আর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। শেষ পর্যন্ত ৩-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে যায় আর্জেন্টিনা।

তবে আইএফএবি জানিয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে ভিএআরের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ ছিল না। সংস্থাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোনো হলুদ কার্ড যদি দ্বিতীয় হলুদ না হয়, তাহলে ভিএআর কেবল ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়েছে কি না, সেটি শনাক্ত করার জন্য হস্তক্ষেপ করতে পারে। কিন্তু কোনো অপরাধ আদৌ হয়েছে কি না বা হলুদ কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা ভিএআরের নেই।

এ বিষয়ে আইএফএবি বলেছে, ‘যে হলুদ কার্ড দ্বিতীয় হলুদ নয়, সেটি কেবল অপরাধ করা খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার জন্য পর্যালোচনা করা যেতে পারে। অপরাধটি হয়েছিল কি না বা সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য নয়।’

তবে সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ভুল পরিচয় সংক্রান্ত নিয়ম ব্যবহার করে অভিনয়ের ঘটনা সামাল দেওয়ার যে পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল, তা ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। বিষয়টি ভিএআর প্রটোকলের বিস্তারিত পর্যালোচনার অংশ হবে। তবে সেই পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পদ্ধতি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহার করা যাবে না।

ম্যাচ শেষে সুইজারল্যান্ডের প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন এই নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তার মতে, এম্বোলোর লাল কার্ডই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ইয়াকিন বলেন, ‘আজ এই সিদ্ধান্তই আমাদের ম্যাচটা নষ্ট করে দিয়েছে। সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় নেই, কিন্তু এভাবে হারাটা খুবই কষ্টের।’

যদিও ওই বিতর্কিত ম্যাচ জিতে সেমিফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা, শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় লিওনেল স্কালোনির দলের।

/এসএন