দিদিয়ে দেশমের ১৪ বছরের দীর্ঘ অধ্যায়ের অবসানের পর ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশটির কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো সাবেক এই বিশ্বজয়ী ফুটবলারের। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) আনুষ্ঠানিকভাবে জিদানকে কোচ নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জিদানের সঙ্গে ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে এফএফএফ। এর ফলে ইউরো ২০২৮ এবং ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ডাগআউটে দেখা যাবে সাবেক এই বিশ্বকাপজয়ী তারকাকে।
জিদানকে নতুন কোচ হিসেবে ঘোষণা করে এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো এটিকে ফরাসি ফুটবলের জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। দেশমের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি এক অসাধারণ ও অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফেডারেশন নতুন কোনো প্রধান কোচ নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ পেল। আমি দেশমের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ধন্যবাদ জানাতে চাই। দীর্ঘ ১৪টি বছর তিনি ফরাসি ফুটবলকে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ চূড়ায় ধরে রেখেছিলেন। মাঠের ফুটবলে লে ব্লুদের ভাবমূর্তি তিনি অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর অবদানকে যথাযথ সম্মান জানানো অত্যন্ত জরুরি।’
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে নতুন অধ্যায় শুরুর সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জিদানও। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য এক অসীম আনন্দের মুহূর্ত। আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত ও শিহরিত। এই নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত এবং এটি আমাকে ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত করছে।’
রিয়াল মাদ্রিদে কোচ হিসেবে অসাধারণ সাফল্য পাওয়ার পরও বিভিন্ন নামী ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন জিদান। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া। ফ্রান্স দলের প্রতি নিজের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও স্বপ্নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদে কোচিং পর্ব শেষ করার পর ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াই ছিল আমার একমাত্র ইচ্ছা। আমি অন্য সব ক্লাবের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছি শুধু ফরাসি জাতীয় দলের কোচ হওয়ার জন্য।’
নিজের ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুর সময়ের স্মৃতিও তুলে ধরেছেন জিদান। তিনি বলেন, ‘শৈশব থেকেই এই লালিত স্বপ্নের কথা আমি জানি; ফরাসি যুব দল থেকে শুরু করে প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে একসময় মূল জাতীয় দলে খেলেছি, যা একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ চূড়া। এই দলের জন্য কাজ করা এবং তাদের একের পর এক জয় সুনিশ্চিত করা—এটিই এখন আমার একমাত্র অনুপ্রেরণা।’
খেলোয়াড় হিসেবে ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ বিশ্বকাপ ও ২০০০ ইউরো জিতেছেন জিদান। কোচিং ক্যারিয়ারেও রিয়াল মাদ্রিদকে টানা তিনটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতিয়ে ইতিহাস গড়েছেন তিনি।
দেশমের বিদায়ের পর ফ্রান্সের ডাগআউটে জিদানের মতো একজন কিংবদন্তির আগমন দেশটির ফুটবলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এখন দেখার বিষয়, খেলোয়াড় ও ক্লাব কোচ হিসেবে অর্জন করা সাফল্য জাতীয় দলের দায়িত্বেও কতটা ধরে রাখতে পারেন জিদান।