• ঢাকা
  • শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:২৭ এএম


কেন মুখে ট্যাপ লাগিয়ে ঘুমান হালান্ড?

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৬ জুলাই ২০২৬ ৭:৪৪ পিএম

হালান্ডের মুখে টেপের অভ্যাস ভাইরাল, ‘মাউথ টেপিং’ নিয়ে যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরা তারকাদের পারফরম্যান্স, রেকর্ড ও গোলের পাশাপাশি তাদের জীবনযাপন, ফিটনেস রুটিন এবং স্বাস্থ্য-অভ্যাসও আলোচনায় উঠে আসে। এবার সেই আলোচনায় জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ডের একটি অভ্যাস। ঘুমানোর সময় মুখে টেপ লাগানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ‘মাউথ টেপিং’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

অনেকের ধারণা, এই অভ্যাসই হালান্ডের ভালো ঘুম, দ্রুত রিকভারি এবং অসাধারণ ফিটনেসের অন্যতম রহস্য। শুধু হালান্ডই নন, টেনিস তারকা ইগা শভিয়ন্তেকও ঘুমের সময় মুখে টেপ ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মাউথ টেপিং’ নতুন স্বাস্থ্য-ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে।

তবে চিকিৎসক ও ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি যতটা সহজ মনে হচ্ছে, বাস্তবে ততটা নয়। তাদের মতে, হালান্ডকে অনুসরণ করার আগে এই পদ্ধতি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক তথ্য জানা জরুরি।

মাউথ টেপিং কী?

মাউথ টেপিং বলতে ঘুমানোর সময় বিশেষ ধরনের টেপ দিয়ে ঠোঁট বন্ধ রাখা বোঝায়, যাতে মুখের পরিবর্তে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার কিছু প্রমাণিত উপকারিতা রয়েছে। নাক বাতাসকে ছেঁকে, উষ্ণ করে এবং আর্দ্রতা যোগ করে ফুসফুসে পাঠায়। এতে শ্বাস-প্রশ্বাস আরও ধীর ও নিয়ন্ত্রিত হয়, যা বিশ্রাম ও ঘুমের সময় শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে।

গবেষণা কী বলছে?

বর্তমান বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এমন কোনো শক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে মাউথ টেপিং ক্রীড়া দক্ষতা বাড়ায়, শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধি করে বা দ্রুত রিকভারিতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এলিট অ্যাথলেটদের সাফল্যের পেছনে পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, ফিজিওথেরাপি, মানসিক প্রস্তুতি ও বিশ্রামসহ নানা বিষয় কাজ করে। তাই শুধুমাত্র মুখে টেপ লাগানোর কারণে তাদের পারফরম্যান্স ভালো হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্ত বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়।

ব্যায়ামের সময় মুখে টেপ লাগানো কি নিরাপদ?

সাম্প্রতিক সময়ে অনেকে ব্যায়ামের সময়ও মুখে টেপ ব্যবহার করছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়।

ব্যায়ামের তীব্রতা বাড়লে শরীরের অক্সিজেনের চাহিদাও বেড়ে যায়। তখন নাকের পাশাপাশি মুখ দিয়েও শ্বাস নেওয়া শরীরের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। এ অবস্থায় জোর করে মুখ বন্ধ রাখলে শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি এবং ব্যায়ামের সক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই অভ্যাস অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মুখে টেপ লাগালেই কি বদলে যাবে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস?

অনেকে মনে করেন, নিয়মিত মাউথ টেপিং করলে স্থায়ীভাবে নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হয়। কিন্তু বর্তমান গবেষণা এই দাবির পক্ষে শক্ত প্রমাণ দেয় না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া সাধারণত কোনো রোগ নয়; বরং এটি অন্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। যেমন—নাক বন্ধ থাকা, অ্যালার্জি, স্লিপ অ্যাপনিয়া, শ্বাস-প্রশ্বাসের ভুল কৌশল, ডায়াফ্রামের দুর্বলতা বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ। এসব সমস্যার সমাধান না করে শুধু মুখে টেপ লাগানো দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান নয়।

হালান্ডকে অনুসরণ করার আগে যা জানা দরকার

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, হালান্ড বা অন্য আন্তর্জাতিক ক্রীড়াবিদরা চিকিৎসক, ফিজিওথেরাপিস্ট, ঘুম বিশেষজ্ঞ ও পুষ্টিবিদদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে থাকেন। তাই তাদের ব্যক্তিগত অভ্যাস সবার জন্য সমানভাবে নিরাপদ হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

যাদের নাক ডাকার সমস্যা রয়েছে, ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, সকালে অতিরিক্ত ক্লান্ত লাগে বা ঘন ঘন মাথাব্যথা হয়, তাদের আগে ইএনটি বিশেষজ্ঞ বা স্লিপ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘মাউথ টেপিং’-এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়লেও এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। ভালো ঘুম, সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং প্রয়োজন হলে সঠিক শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলনই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

/এএসএফ