• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম


তাওবার দরজা সবসময় খোলা, অনুশোচনাই বান্দাকে আল্লাহর প্রিয় করে তোলে

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৩০ জুলাই ২০২৬ ১১:১৭ এএম

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁর রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন, কোনো বান্দা একটি গুনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলল, ‘হে আমার রব, আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ তখন আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা একটি গুনাহ করেছে। এরপর সে উপলব্ধি করেছে যে, তার একজন রব আছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন অথবা গুনাহের জন্য শাস্তি দেন।’

এরপর সেই বান্দা আবারও গুনাহ করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে বলে, ‘হে আমার রব, আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করে দিন।’ তখন আল্লাহ তাআলা আবার বলেন, ‘আমার বান্দা একটি গুনাহ করেছে। এরপর সে জেনেছে যে, তার একজন রব আছেন, যিনি গুনাহ ক্ষমা করেন অথবা গুনাহের কারণে শাস্তি দেন। (আমার বান্দার এই ভয়ের কারণে) আমি আমার বান্দাকে ক্ষমা করে দিলাম। তাই সে যা মন চায়, তাই করুক।’

এ হাদিসটি সহিহ বুখারি (হাদিস: ৭৫০৭), সহিহ মুসলিম (হাদিস: ৬৯৮৬) এবং মুসনাদে আহমাদ (হাদিস: ১০৩৭৯)-এ বর্ণিত হয়েছে।

হাদিসের শিক্ষা ও বিধান

আল্লাহর অসীম ক্ষমাশীলতা:
আল্লাহ তাআলা পরম দয়ালু ও অতি ক্ষমাশীল। কোনো বান্দা আন্তরিকভাবে তাওবা করলে তিনি তার গুনাহ ক্ষমা করে দেন।

হতাশ না হওয়ার শিক্ষা:
ভুলবশত কিংবা শয়তানের প্ররোচনায় গুনাহ হয়ে গেলেও হতাশ হওয়া যাবে না। বরং দ্রুত আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে। প্রকৃত মুমিন কখনো আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয় না।

বারবার তাওবার সুযোগ:
তাওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত। একই গুনাহ অনিচ্ছাকৃতভাবে বারবার হয়ে গেলেও যদি বান্দা লজ্জিত ও অনুতপ্ত হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসে, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দেন।

আশা ও ভয়ের ভারসাম্য:
গুনাহের কারণে আল্লাহর শাস্তিকে ভয় করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি তাঁর রহমতের ওপর আশাও রাখতে হবে। আল্লাহর রহমতের আশা ও তাঁর শাস্তির ভয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে জীবনযাপন করাই একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

সঠিক তাওবার শর্ত:
শুধু মুখে ‘ক্ষমা চাই’ বললেই তাওবা পূর্ণ হয় না। প্রকৃত তাওবার জন্য অন্তরে সত্যিকারের অনুশোচনা থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে সেই গুনাহ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।

পাপকে হালকা মনে না করা:
এই হাদিস কোনোভাবেই পাপ করতে উৎসাহ দেয় না বা পাপকে বৈধ বলে না। বরং এতে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, গুনাহ হয়ে গেলে কীভাবে দ্রুত অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে।

আন্তরিকতার মূল্য:
আল্লাহ তাআলা বান্দার বাহ্যিক অবস্থা নয়, বরং তার অন্তরের আন্তরিকতা ও আল্লাহভীতি মূল্যায়ন করেন। বান্দার খাঁটি অনুশোচনাই তাকে আল্লাহর মাগফিরাত ও ক্ষমা লাভের যোগ্য করে তোলে।

/এসএন