• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:২২ এএম


নবীজি (সা.)-এর শেখানো চার নিয়ামতের দোয়া, যা সফল জীবনের দিশা দেয়

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৬ জুলাই ২০২৬ ৭:৪৫ এএম

একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন। সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন সঠিক পথের দিশা, আল্লাহভীতি, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং মানুষের কাছে মুখাপেক্ষী না হয়ে সম্মানজনক জীবনযাপনের তাওফিক। এসব মহামূল্যবান নিয়ামত লাভের জন্য মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) উম্মতকে একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু অত্যন্ত অর্থবহ দোয়া শিখিয়েছেন। এই দোয়ায় দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত একসঙ্গে প্রার্থনা করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো দোয়া

সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) নিয়মিত এভাবে দোয়া করতেন—

اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى

উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আসআলুকাল হুদা, ওয়াত-তুকা, ওয়াল-আফাফা, ওয়াল-গিনা।’

অর্থ: ‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে হিদায়াত (সঠিক পথের দিশা), তাকওয়া (আল্লাহভীতি), চারিত্রিক পবিত্রতা (সংযম) এবং সচ্ছলতা (অমুখাপেক্ষিতা) প্রার্থনা করছি।’ (মুসলিম: ২৭২১)

দোয়ার চারটি মহামূল্যবান শিক্ষা

১. الْهُدَى (আল-হুদা) — হিদায়াত বা সঠিক পথের দিশা

হিদায়াত এমন একটি নিয়ামত, যা মানুষকে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সহায়তা করে। তাই প্রতিটি মুমিনের উচিত সবসময় আল্লাহর কাছে সঠিক পথের ওপর অবিচল থাকার জন্য দোয়া করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

اهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ

‘আমাদেরকে সরল পথের হিদায়াত দিন।’ (সুরা আল-ফাতিহা: আয়াত ৬)

২. التُّقَى (আত-তুকা) — তাকওয়া বা আল্লাহভীতি

তাকওয়া এমন একটি গুণ, যা মানুষকে গুনাহ থেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَتَزَوَّدُوا فَإِنَّ خَيْرَ الزَّادِ التَّقْوَى

‘তোমরা পাথেয় সংগ্রহ করো। আর সর্বোত্তম পাথেয় হলো তাকওয়া।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৯৭)

৩. الْعَفَافَ (আল-আফাফ) — চারিত্রিক পবিত্রতা ও সংযম

আফাফ বলতে নিজেকে হারাম কাজ, অশ্লীলতা এবং লোভ-লালসা থেকে সংযত রাখাকে বোঝায়। একজন মুমিনের প্রকৃত সৌন্দর্য তার উত্তম চরিত্র ও পবিত্র জীবনযাপনে।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّىٰ يُغْنِيَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ

‘যারা বিবাহের সামর্থ্য রাখে না, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে, যতক্ষণ না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদের অভাবমুক্ত করেন।’ (সুরা আন-নুর: আয়াত ৩৩)

৪. الْغِنَى (আল-গিনা) — সচ্ছলতা ও অমুখাপেক্ষিতা

এখানে ‘গিনা’ বলতে কেবল অর্থ-সম্পদ বোঝানো হয়নি। বরং মানুষের কাছে হাত না পেতে আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে সম্মানজনক ও অমুখাপেক্ষী জীবনযাপনের তাওফিককে বোঝানো হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ، وَلَكِنَّ الْغِنَى غِنَى النَّفْسِ

‘প্রকৃত সম্পদ অধিক ধন-সম্পদে নয়; বরং প্রকৃত সম্পদ হলো অন্তরের প্রাচুর্য।’ (বুখারি: ৬৪৪৬, মুসলিম: ১০৫১)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই সংক্ষিপ্ত দোয়াটি একজন মুসলিমের জীবন গঠনের জন্য অনন্য দিকনির্দেশনা বহন করে। এতে এমন চারটি নিয়ামত প্রার্থনা করা হয়েছে, যা দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার ভিত্তি—হিদায়াত, তাকওয়া, চারিত্রিক পবিত্রতা এবং অমুখাপেক্ষিতা। তাই শুধু দোয়াটি মুখস্থ করাই নয়, বরং নিয়মিত নামাজের পর, সকাল-সন্ধ্যার জিকিরে এবং ব্যক্তিগত মুনাজাতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সবাইকে এই চারটি মহামূল্যবান নিয়ামত দান করেন এবং তাঁর সন্তুষ্টির পথে অবিচল থাকার তাওফিক দান করেন। আমিন।

/এসএন