নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আরও অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
রোববার আড়াইহাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহত ওসমান গণির স্ত্রী সুলতানা রাজিয়া বৈশাখী। মামলায় নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন। স্থানীয়দের ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকায় ওসমান গণির সঙ্গে আসামিদের বিরোধ তৈরি হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় ওসমান গণিকে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
ঘটনার বিবরণে বলা হয়েছে, গত ২০ মে সন্ধ্যায় দুপ্তারা ইউনিয়নের কাউন্দাচক কবরস্থানসংলগ্ন একটি পুকুরে ভাড়া দেওয়া ভেকু মেশিন বিকল হলে সেটি মেরামতের জন্য সেখানে যান ওসমান গণি। পরে রাত একটার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার গতিরোধ করে। এ সময় তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। হামলায় তার সঙ্গে থাকা আরও দুজন আহত হন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। নিহতের স্বজন ও সমর্থকেরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর এবং দুটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। পরে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর পরিকল্পনা ও নির্দেশে এবং দ্বিতীয় আসামি নাঈম হাসানের ছত্রছায়ায় ওসমান গণিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।