• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০৫ পিএম


গঙ্গা চুক্তিতে ১৯৭৭ সালের ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফেরাতে চায় বাংলাদেশ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫:২৩ পিএম

চলতি বছরের ডিসেম্বরের আগেই ভারতের সঙ্গে গঙ্গা চুক্তি সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি জানিয়েছেন, নতুন গঙ্গা চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার হবে ১৯৭৭ সালের চুক্তিতে থাকা ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা।

পাশাপাশি আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিস্তা বহুমুখী প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই বা ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ করে আগামী বছরই প্রকল্পটির মূল কাজ শুরু করতে চায় সরকার বলেও জানান মন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন ভাবনা : তরুণ নেতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও সহযোগিতা’ শীর্ষক সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রজেক্ট এবং মাস্টারমাইন্ড প্রজেক্ট। এসব প্রকল্পের সুফল দেশের মোট অঞ্চলের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ পাবে বলেও জানান তিনি।

পদ্মা ব্যারাজের কাজ দৃশ্যমান করার জন্য একনেকে প্রকল্পটি পাস হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের যেকোনো এক সময়ে এর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে তারা আশা করছেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনাকে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তিস্তা একটি খরস্রোতা নদী। ভারত থেকে উজানের পানি যেভাবে ভাটির দিকে আসে, সেই প্রবাহের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ওই অঞ্চলের মানুষ নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে অনেক সেমিনার হয়েছে এবং হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও বৈঠক করা হয়েছে এবং তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছে। প্রকল্পটির জন্য তাদের কারিগরি সহায়তা বা টেকনিক্যাল সাপোর্ট নেওয়া প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, খুব শিগগিরই তিস্তা প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ হাতে নিতে হবে। সেই স্টাডির ভিত্তিতেই প্রকল্পের মূল কাজ শুরু করা হবে। এটি সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সব কাজ শেষ করে ওই বছরই মূল কাজ শুরু করা যায় কি না, সেদিকে সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।

গঙ্গা চুক্তি প্রসঙ্গে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে সবাই বেশ উদগ্রীব। ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ৩০ বছরের গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। ১৯৭৭ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবদ্দশায় প্রথম পাঁচ বছরের জন্য যে চুক্তি হয়েছিল, সেখানে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ছিল। কিন্তু ১৯৯৬ সালে সেই গ্যারান্টি ক্লজ বাদ দিয়ে চুক্তিটি নবায়ন বা নতুন করে করা হয়।

তিনি বলেন, ১২ ডিসেম্বরের আগেই বাংলাদেশের নতুন চুক্তি করতে হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ভারত উভয় পক্ষ যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন বৈঠকের ভিত্তিতে তারা আশাবাদী যে, ২০২৬ সালের ১২ ডিসেম্বরের আগেই নতুন চুক্তি সম্পন্ন হবে।

নতুন চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার কী হবে—এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালের চুক্তির মতো ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ ফিরিয়ে আনাই থাকবে মূল অগ্রাধিকার।

পদ্মা ব্যারাজ ও তিস্তা প্রকল্পে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ বা প্রতিবন্ধকতা অনুভব করছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, পদ্মা ও তিস্তার পাড়ে যারা বসবাস করেন, তারা বাংলাদেশেরই মানুষ। তিনি বলেন, ‘আমার দেশের মানুষের স্বার্থ ও চাপই আমার কাছে সবচেয়ে বড় চাপ। সেই চাপকে ধারণ করে দেশের মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি প্রসঙ্গে আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পদ্মা ব্যারাজের স্টাডি সম্পন্ন করতেই ২০০৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় লেগেছিল। পরবর্তী সময়ে সেটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। তবে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত করে কাজ হাতে নিয়েছে।

তিস্তার মতো একটি মেগা প্রজেক্টের স্টাডি রাতারাতি কিংবা এক-দুই মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্য, অতীতে যারা দায়িত্বে ছিলেন, তারা পর্যাপ্ত টেকনিক্যাল সাপোর্ট নিয়ে কাজটি শেষ করেননি। তাই বর্তমান সরকার নিজ উদ্যোগে এই কাজ সম্পন্ন করে তিস্তা প্রকল্পকে দৃশ্যমান রূপ দিতে চায়।

/এসএন