• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪০ পিএম


গেটের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসালেন সাবেক ছাত্রদল নেতা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৪ মে ২০২৬ ১১:৪০ পিএম

কুড়িগ্রামের চিলমারী সরকারি ডিগ্রি কলেজের ফটকের তালা ভেঙে কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানোর অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রদলের সদ্য সাবেক কমিটির সহ-সমাজসেবা সম্পাদক জিহাদ ফেরদৌস চমকের বিরুদ্ধে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও প্রভাব খাটিয়ে কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার দুপুরে কলেজ গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে বাঁশের খুঁটি পুঁতে হাট শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী। অভিযুক্ত জিহাদ ফেরদৌস চমক চিলমারী উপজেলা শহরের বাসিন্দা।

কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর সুযোগ নেই। এ বিষয়ে কলেজের স্টাফ কাউন্সিল সভায় কলেজ মাঠে হাট বসানোর অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে গত বুধবার লিখিতভাবে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হয়। একই সঙ্গে এর অনুলিপি জেলা প্রশাসক ও চিলমারী থানার ওসিকেও পাঠানো হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, এসব কিছুর পরও গায়ের জোরে কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়েছে। রোববার সকালে কলেজ চত্বরে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে পরে কী ধরনের সমঝোতা হয়েছে, তা তিনি জানেন না। কিছু সময় পর পুলিশ চলে গেলে আয়োজকেরা গেটের তিনটি তালা ভেঙে মাঠে প্রবেশ করেন এবং সেখানে গরু-ছাগলের হাট বসান।

অধ্যক্ষ ড. মজিবল হায়দার চৌধুরী আরও বলেন, “কলেজ মাঠে পশুর হাট বসানো বেআইনি। আমি লিখিতভাবে জেলা প্রশাসক ও ইউএনওকে জানিয়েছি। প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে আমার কিছু করার নেই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিহাদ ফেরদৌস চমক। তিনি দাবি করেন, সরকার ২০২৫ সালে অস্থায়ী হাট বসানোর জন্য আইন করেছে এবং সেই অনুযায়ী জামানতের টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়েই কলেজ মাঠে হাট বসানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও লিখিত অনুমতি দেখাতে পারেননি।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমরা নিয়ম অনুযায়ী জামানত জমা দিয়েছি। ডিসি অফিসে আমাদের ডাকা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে ফি দিয়ে হাট পরিচালনা করতে। ইউএনওর সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে। অনুমতি ছাড়া কি আমরা এটা করতে পারি?”

তিনি আরও বলেন, এটি একটি ঐতিহ্যবাহী অস্থায়ী হাট, যা বহু বছর ধরে কলেজ মাঠে বসে আসছে। তাঁর ভাষায়, “এটা ব্যবসায়িক কার্যক্রম, এর সঙ্গে রাজনীতি বা ছাত্রদলের কোনো সম্পর্ক নেই।”

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানোর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “এটা নতুন কিছু নয়, প্রতি বছরই হয়ে আসছে।”

এদিকে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, হাট বসানোর জন্য আবেদন করা হলেও কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা কোনো অনুমোদন দিইনি। শুনেছি গেটে তালা দেওয়া ছিল, সেই তালা ভেঙে হাট বসানো হয়েছে। বিষয়টি দেখতে ইউএনওকে বলা হয়েছে।”

চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

চিলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নয়ন কুমার কলেজ মাঠে হাট বসানোর ঘটনা নিশ্চিত করেছেন। তবে তাঁর দাবি, হাট আয়োজকদের কাছে টাকা জমার রশিদ ও অনুমোদনের কাগজ রয়েছে এবং ইউএনও বিষয়টি অবগত আছেন। এ কারণেই সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরে ফিরে আসে।