ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পড়তে যাওয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে জামালপুরের মাদারগঞ্জে। আত্মহত্যার আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মা-বাবা ও ভালোবাসার মানুষকে উদ্দেশ্য করে আবেগঘন একটি পোস্ট দেন মোস্তফা আহমেদ সাগর (২৫)।শনিবার (২৩ মে) বিকেলে পোস্ট দেওয়ার কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর আসে বলে জানিয়েছে পরিবার।
নিহত সাগর জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারি এলাকার বাসিন্দা মোশারফ হোসেন মিন্টুর ছেলে। তিনি ভারতের দিল্লির ফরিদাবাদে অবস্থিত মানব রচনা ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড স্টাডিজের কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত্যুর আগে ফেসবুক পোস্টে সাগর বাবা-মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে লেখেন, তিনি নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অনেক চেষ্টা করেছেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি তার ভালোবাসার মানুষের কথাও উল্লেখ করেন।স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন,“মা বাবা আমায় মাফ করিও। নিজেকে অনেক বাঁচানোর জন্য যুদ্ধ করলাম, অবশেষে আজ আমি ক্লান্ত এবং চলে যাচ্ছি খোদার কাছে।”এছাড়া নিজের অপূর্ণ ভালোবাসা, হতাশা ও জীবনের ব্যর্থতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
পোস্টে কাউকে দায়ী না করার অনুরোধও জানান সাগর।সাগরের বাবা মোশারফ হোসেন মিন্টু বলেন, “আমি হঠাৎ শুনি আমার ছেলে মারা গেছে। এটা আত্মহত্যা নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তা আমি জানি না। আমি সঠিক তদন্ত ও বিচার চাই। একই সঙ্গে সরকারের কাছে অনুরোধ, দ্রুত যেন আমার ছেলের লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।”
অন্যদিকে সাগরের মা জানান, ঘটনার দিন দুপুরেও ছেলের সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি জানতে চেয়েছিলাম, সে কী করছে। তখন সে বলেছিল বাসায় শুয়ে আছে। পরীক্ষার প্রস্তুতির কথাও হয়েছিল। এটাই ছিল আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা।”এ বিষয়ে মাদারগঞ্জ থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং বিষয়টি তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন।
/বিএসএস