• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১০ পিএম


বুয়েট কর্মকর্তা ছেলের বিরু’দ্ধে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগ, আদালতে শতবর্ষী মা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৫:২৭ পিএম

রহিমা খাতুন ওরফে মনোয়ারা রেফুলের বয়স ১০০ বছর। বয়সের ভারে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। বসবাস করছেন জরাজীর্ণ একটি ঘরে। এই শতবর্ষী মায়ের অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত মামলার কথা বলে তার ও তার স্বামীর টিপসই নিয়ে প্রায় ১২ বিঘা কৃষিজমি, আমবাগান ও বসতভিটাসহ পারিবারিক সম্পত্তি নিজের নামে লিখে নিয়েছেন তার ছেলে।

অভিযুক্ত ছেলে মো. মুখতারুজ্জামান বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার।

রহিমা খাতুনের অভিযোগ, শুধু পারিবারিক সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়াই নয়, পৈতৃক বসতভিটা থেকে তাকে উচ্ছেদের চাপও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামত করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তার। জীবনের শেষ সময়ে নিজের বসতভিটা ও সম্পত্তির অধিকার ফিরে পেতে শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন শতবর্ষী এই নারী।

সম্পত্তির অধিকার ও বসতভিটা রক্ষার দাবিতে ছেলে মুখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন রহিমা খাতুন ওরফে মনোয়ারা রেফুল। তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা মাঝপাড়া গ্রামের মৃত এসলাম হোসেনের স্ত্রী। গত ৩১ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতে মামলাটি করা হয়।

মামলায় রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, মুখতারুজ্জামান তার বাবাকে ভুল তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান এবং টিপসইয়ের মাধ্যমে জমি নিজের নামে লিখে নেন। পরে একইভাবে তার কাছ থেকেও টিপসই নেওয়া হয়। ‘জমি নিয়ে মামলা চলছে’—এমন কথা বলে তার ও স্বামীর কাছ থেকে টিপসই নেওয়া হয়েছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ওই টিপসই ব্যবহার করে তাদের পারিবারিক সম্পত্তি ছেলের নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। তবে কাউকে নিজের সম্পত্তি লিখে দেননি বলে দাবি করেন রহিমা খাতুন।

শতবর্ষী এই নারী জানান, বর্তমানে তিনি ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেনকে নিয়ে পৈতৃক বাড়িতে বসবাস করছেন। তবে বাড়িটির অবস্থা অত্যন্ত জরাজীর্ণ। টিনের চাল ফুটো হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে পড়ে। বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে এবং কাঠের অংশেও ঘুন ধরেছে। ঘরটি মেরামতের উদ্যোগ নিলেও মুখতারুজ্জামান তাতে বাধা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রহিমা খাতুনের ভাষ্য, সম্পত্তি নিজের নামে নেওয়ার পর তাকে এবং তার ছোট ছেলে ইসমাইলকে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টির সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ হয়েছে। এ ছাড়া থানায় অভিযোগ এবং জেলা লিগ্যাল এইডেরও দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। তবে এসব উদ্যোগের পরও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

রহিমা খাতুনের ছোট ছেলে ইসমাইল হোসেন বলেন, তাদের বাবা-মায়ের প্রায় ১২ বিঘা ধান ও আমের জমি এবং বসতভিটা রয়েছে। এসব সম্পত্তি বড় ভাই মুখতারুজ্জামানের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ইসমাইল হোসেন জানান, তিনিই তার মায়ের দেখাশোনা করেন। অথচ বাড়িটি বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সেটি মেরামত করতে দেওয়া হচ্ছে না।

পরিবারের অন্য দুই সদস্য আলিম হোসেন ও খাইরুল হোসেনও একই ধরনের অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, সাত ভাই-বোনের মধ্যে তারা ছয়জনই পারিবারিক সম্পত্তির অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

/এসএন