নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর গুলশান-বনানীর ঝকঝকে উঁচু ভবনের পাশেই কড়াইল বস্তির ভিন্ন এক বাস্তবতা। টিনের চাল, সরু গলি আর অনিশ্চিত জীবনের মাঝেও গত কয়েক মাসে এখানকার মানুষের মুখে নতুন একটি শব্দ— ‘ফ্যামিলি কার্ড’।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কিছু পরিবার আর্থিক সহায়তা পেলেও একই বস্তির বহু পরিবার এখনও এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে কারও কাছে এটি স্বস্তি, আবার কারও কাছে নতুন বঞ্চনার গল্প হয়ে উঠেছে।
কড়াইলের ‘মায়ের দোয়া স্কুল গলি’র বাসিন্দা লাকী আক্তার প্রায় ২০ বছর ধরে বস্তিতে থাকেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে একাই জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন। ফ্যামিলি কার্ডের আশায় বহুবার কাগজ জমা দিলেও এখনও কোনো সহায়তা পাননি।
লাকীর ভাষায়, “কতো কিছু জমা দিছি, কিছুই পাই নাই।”
তিনি জানান, যে বাড়িতে তিনি থাকেন সেখানে ২১টি পরিবারের মধ্যে মাত্র দুইজন নারী সহায়তা পেয়েছেন। বাকিরা এখনও অপেক্ষায়। একই অভিযোগ খোদেজা বেগম, আকলিমা আক্তারসহ আরও অনেকের।
অন্যদিকে যারা সহায়তা পেয়েছেন, তাদের কাছে এটি সাময়িক স্বস্তি এনে দিয়েছে। তানিয়া আক্তার জানান, তার মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে দুই দফায় ২ হাজার ৫০০ টাকা করে এসেছে।
তিনি বলেন, “আইডি কার্ডের ফটো, ছবি, সিগনেচার, বিকাশ নম্বর সব নিছে। পরে মোবাইলে টাকা আইছে।”
হালিমা বেগম নামের আরেক বাসিন্দা জানান, ফ্যামিলি কার্ডের টাকা দিয়ে তিনি তিন মাসের বকেয়া ঘরভাড়া পরিশোধ করেছেন। তার ভাষায়, “ফ্যামিলি কার্ডের টাকা পাইয়া আমি রুম ভাড়া দিছি।”
তবে পুরো কার্যক্রম ঘিরে রয়েছে নানা বিভ্রান্তি ও অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, প্রকৃত দরিদ্র অনেক পরিবার বাদ পড়েছে, আবার তুলনামূলক সচ্ছল কিছু পরিবার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কেউ হাতে কার্ড পাননি, শুধু মোবাইলে টাকা পেয়েছেন। আবার কেউ এক মাস টাকা পাওয়ার পর আর কোনো সহায়তা পাননি।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব (ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি) মো. সাইফুল হক জানিয়েছেন, যেসব পরিবার এখনও তালিকাভুক্ত হয়নি বা টাকা পায়নি, তারা স্থানীয় সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারবেন। অভিযোগগুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
/এএসএফ