বিশ্বে ফার্মের মুরগি উৎপাদনে এখনো শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় জায়গা করে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে উৎপাদনের হিসেবে ১৮৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৫৩তম।
এফএওর তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে দেশে মোট ২ লাখ ৩২ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন ফার্মের মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশ রয়েছে চতুর্থ স্থানে। এ অঞ্চলে উৎপাদনের দিক থেকে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী ফার্মের মুরগির মাংস উৎপাদনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে বছরে ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদন হয়। আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা, উন্নত জৈব নিরাপত্তা এবং সরকারি সহায়তাকে এ সাফল্যের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন। দেশটিতে ১ কোটি ৬০ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিক টন মুরগির মাংস উৎপাদিত হয়েছে। ১ কোটি ৩৭ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল।
এ ছাড়া রাশিয়া ৫৪ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন নিয়ে চতুর্থ এবং ভারত ৫০ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। শীর্ষ দশের বাকি দেশগুলো হলো ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, মিশর, তুরস্ক ও জাপান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে পোলট্রি শিল্পের বিস্তার ঘটলেও আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের অভাব এবং পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য উৎপাদন বৃদ্ধির পথে বড় বাধা হয়ে রয়েছে। বর্তমানে মুরগি উৎপাদনের মোট ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়।
তাদের মতে, উৎপাদন আরও বাড়াতে পোলট্রি ফিডের দাম কমানো, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন।
/এসএন