• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম


গ্যাস্ট্রিক ভেবে অবহেলা, অকালেই থেমে যাচ্ছে তরুণদের হৃদস্পন্দন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৪২ পিএম

একসময় হৃদরোগ বা হার্ট অ্যাটাকের কথা উঠলেই মানুষের চোখের সামনে প্রবীণদের চিত্র ভেসে উঠত। সাধারণ ধারণা ছিল, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এ ধরনের রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। কিন্তু সেই ধারণা এখন অনেকটাই বদলে গেছে। গত দেড় দশকে দেশে তরুণদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়া এবং অকালমৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই বড় কোনো লক্ষণ প্রকাশের আগেই হঠাৎ থেমে যাচ্ছে তরুণদের হৃদস্পন্দন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত জীবনযাপন, অতিরিক্ত ফাস্টফুড গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের ঘাটতি, ধূমপান ও মানসিক চাপ তরুণদের হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

হঠাৎ বিদায়: গ্যাস্ট্রিকের ওষুধেও থামেনি স্পন্দন

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুই বন্ধু সামিউল (৩৩) ও তৌহিদ (৩২)। ছুটির দিনে তারা ধানমন্ডি লেকের একটি ক্যাফেতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও ক্যারিয়ারের নানা চাপ নিয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ বুকে অস্বস্তি এবং প্রচণ্ড ঘামের কথা জানান তৌহিদ।

তার ধারণা হয়েছিল, দুপুরে ফাস্টফুড খাওয়ার কারণে হয়তো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হয়েছে। পাশের একটি ফার্মেসি থেকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ নিয়ে আবার আড্ডায় ফেরার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই সামিউলের চোখের সামনে ঢলে পড়েন তৌহিদ। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর অনেক আগেই তার ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল।

বন্ধুর সেই মর্মান্তিক মৃত্যুর কথা এখনো ভুলতে পারেন না সামিউল। তিনি বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম সাধারণ এসিডিটি। ও নিজে হেঁটে ফার্মেসিতে গিয়ে ওষুধ খেল। অথচ কয়েক মিনিটের মধ্যে আমার চোখের সামনেই তৌহিদ শেষ হয়ে গেল। এত কম বয়সে যে এমন ঘটনা ঘটতে পারে, তা আমরা ধারণাই করতে পারিনি।”

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের বাসিন্দা হামিদ রানা (২৭)। স্থানীয় একটি সরকারি কলেজ থেকে সফলভাবে স্নাতক শেষ করে সম্প্রতি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি শুরু করেছিলেন তিনি। নিজের উপার্জনে পরিবারের দুঃখ-কষ্ট দূর করা এবং বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তার।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। গভীর রাতে হঠাৎ তীব্র বুকে ব্যথা শুরু হয় হামিদের। ব্যথা বাড়তে থাকলে স্বজনরা তাকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার জন্য রওনা হন। কিন্তু চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর আগেই পথেই মারা যান এই তরুণ শিক্ষক।

তরুণ বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হামিদের এমন অকালমৃত্যু শুধু তার পরিবারকেই শোকাহত করেনি, পুরো এলাকাতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

ভীতি বাড়াচ্ছে পরিসংখ্যান

তৌহিদ কিংবা হামিদ রানা একা নন। তরুণদের এমন অকালমৃত্যুর ঘটনা এখন আর বিচ্ছিন্ন বলে মনে হচ্ছে না। বিভিন্ন গবেষণা ও স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্তেও তরুণদের হৃদরোগের ঝুঁকির একটি উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।

এমন বাস্তবতায় মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব হৃদরোগ দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘ইউজ হার্ট ফর অ্যাকশন’।

দেশে প্রতি বছর ঠিক কত মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হন বা মারা যান, তার সুনির্দিষ্ট জাতীয় তথ্যভাণ্ডার নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ২০২১ সালের উপাত্তে বাংলাদেশের হৃদরোগ পরিস্থিতির একটি চিত্র পাওয়া যায়।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন’ বাংলাদেশসহ ২০০টি দেশ নিয়ে গবেষণা করেছে। ওই তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে ১ কোটি ২ লাখেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন ধরনের হৃদরোগ নিয়ে বেঁচে আছেন। প্রতিবছর প্রায় ৯ লাখ ৯৩ হাজার মানুষ নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ৭২০ জনের শরীরে নতুন করে হৃদরোগ শনাক্ত হচ্ছে।

মৃত্যুর হিসাবেও রয়েছে উদ্বেগজনক চিত্র। ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের গবেষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৫ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগে মারা যান। দৈনিক হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় ৫৬২ জন।

অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিবেদনে আরও ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। সংস্থাটির হিসাবে, বাংলাদেশে প্রতিবছর মোট ৯ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ জনের মৃত্যু হৃদরোগ ও রক্তনালিসংক্রান্ত জটিলতায়। অর্থাৎ ডব্লিউএইচওর হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ৭৭৭ জন মানুষ এ ধরনের রোগে মারা যাচ্ছেন।

ইনস্টিটিউট ফর হেলথ ম্যাট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের হিসাবে, বাংলাদেশে জন্মগত হৃদযন্ত্রের ত্রুটি নিয়ে বসবাস করছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮০৩ জন। প্রতিবছর হৃদযন্ত্রের ত্রুটি থাকা শিশু বা বয়স্ক মানুষের মধ্যে ৪৮ হাজার ৬৭৬ জন শনাক্ত হন। এ ধরনের হৃদরোগে প্রতিবছর ৪ হাজার ৭২২ জনের মৃত্যু হচ্ছে।

এদিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে প্রতি পাঁচজন তরুণের মধ্যে একজন হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন। পাশাপাশি হাসপাতালে হৃদরোগ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় ২৫ শতাংশের বয়স ৫০ বছরের নিচে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ ঘটে হার্ট অ্যাটাক ও হৃদরোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ হৃদরোগ ও রক্তনালীর রোগে মারা যান।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সমীক্ষার তথ্য বলছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী তরুণদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাদের অর্ধেকেরও বেশি—প্রায় ৫১ থেকে ৬৭ শতাংশ—জানেন না যে তাদের রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত।

‘গ্যাস্ট্রিক’ ভেবে ভুল ও চিকিৎসায় দেরি

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে সাধারণত ৬০ বছর বয়সের পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। কিন্তু বাংলাদেশে ৩০ থেকে ৩৫ বছর বয়সেই অনেক মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। অর্থাৎ উন্নত দেশগুলোর তুলনায় প্রায় ২০ থেকে ৩০ বছর আগেই এই ঝুঁকি দেখা দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা তরুণদের হৃদরোগে অকালমৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে অবহেলা ও অসচেতনতাকে দেখছেন। বুকে সামান্য ব্যথা, চাপ অনুভব করা কিংবা অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে অনেক তরুণ সেটিকে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা মনে করেন। চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়ে সাধারণ ওষুধ খেয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ফলে হাসপাতালে পৌঁছাতে দেরি হয় এবং হৃদযন্ত্রের পেশিতে অপূরণীয় ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

কেন ঝুঁকিতে তরুণ প্রজন্ম

চিকিৎসকেরা তরুণদের মধ্যে হৃদরোগ বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অলসতা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব এবং নিয়মিত ব্যায়াম না করার কারণে স্থূলতা ও রক্তে চর্বির মাত্রা বাড়ছে।

এর পাশাপাশি অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ঘুমের ঘাটতিও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বেগ, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের কারণে অনিদ্রা ও মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে, যা হৃদযন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

ধূমপান ও তামাকের ব্যবহারও হৃদরোগের অন্যতম ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৫-১৬ বছর বয়স থেকেই ধূমপানে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে ৩০-৪০ বছরের মধ্যেই রক্তনালিতে বড় ধরনের ব্লক তৈরি হতে পারে।

ফাস্টফুড, অতিরিক্ত লবণ, চিপস, পিৎজা, বার্গার ও ক্যানজাত খাবার বেশি খাওয়ার কারণেও রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল এবং রক্তচাপ দ্রুত বাড়তে পারে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন টাইমস টুডেকে বলেন, “ধূমপান এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে আমাদের তরুণদের মাঝে হৃদরোগের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তরুণ বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে জীবনের বাকি সময়জুড়ে মানুষের কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায়। একই সাথে এটি মানুষের প্রত্যাশিত আয়ু কমিয়ে দেয় এবং অকালমৃত্যু বা পঙ্গুত্বের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “এই সংকট মোকাবেলায় কিশোর বয়স থেকেই স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকেই নিয়মিত খেলাধুলা এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। অতিরিক্ত চিনি, লবণ এবং প্রাণিজ চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। সেই সাথে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে যাতে সহজেই উচ্চ রক্তচাপ মেপে শুরুর দিকেই রোগ শনাক্ত করা যায়, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ শুরুর দিকে ধরা পড়লে ওষুধ ছাড়াই জীবনযাত্রার ধরনে পরিবর্তন এনে উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।”

জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের ওপর জোর

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা হলে শতকরা ৭০ ভাগ হৃদরোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এজন্য প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা কায়িক পরিশ্রম করা, ফাস্টফুড ও ধূমপান পুরোপুরি বাদ দেওয়া, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ৩০ বছর বয়সের পর অন্তত বছরে একবার রক্তচাপ ও রক্তে শর্করা পরীক্ষা করা জরুরি।

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. কাজী নজরুল ইসলাম টাইমস টুডেকে বলেন, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব হৃদরোগ বাড়ার অন্যতম মূল কারণ।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাসাবাড়িতে পুষ্টিকর খাবার তৈরি হলেও শিশুরা সেগুলো এড়িয়ে ফাস্টফুড ও জাঙ্কফুডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে খেলার মাঠের সংকট এবং যাতায়াতে রিকশা বা গাড়ির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে শিশুদের হাঁটাচলার সুযোগও কমে গেছে।

এর ফলে অল্প বয়সেই স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে হৃদযন্ত্রের ধমনিতে ব্লক তৈরির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত স্থূলতার কারণে ‘স্লিপ অ্যাপনিয়া’ বা অতিরিক্ত নাক ডাকার সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা ঘুমের মধ্যেও অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

অল্প বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে ধূমপানকেও অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। সহজলভ্য হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সহজেই ধূমপানে জড়িয়ে পড়ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ধোঁয়ার ক্ষতিকর উপাদান রক্ত ঘন করে এবং হৃদপিণ্ডের গতি ও রক্তচাপ বাড়িয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়।

এর পাশাপাশি আধুনিক প্রতিযোগিতামূলক শিক্ষাব্যবস্থা থেকে তৈরি মানসিক চাপ, দিনের বড় অংশ মোবাইল বা টেলিভিশনে কাটানো এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন হৃদরোগের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সঙ্গে পারিবারিক ইতিহাস বা জন্মগত কিছু হৃদরোগের কারণেও কখনো কখনো খেলাধুলা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের সময় হঠাৎ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

এই স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে দৈনন্দিন জীবনে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন অধ্যাপক ডা. কাজী নজরুল ইসলাম। ছোটদের প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসা কিংবা আশপাশের রাস্তায় হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং বড়দের সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ থেকে ৪০ মিনিট ব্যায়াম বা দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি ফাস্টফুড, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার, লাল মাংস ও ধূমপান পরিহার করে নিয়মিত শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার গ্রহণের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন এই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ।

/এসএন