আম পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন, যিনি আম পছন্দ করেন না। স্বাদ, ঘ্রাণ এবং পুষ্টিগুণের কারণে আমকে বলা হয় ‘ফলের রাজা’। মৌসুমি এই ফলে রয়েছে ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফোলেট, ফাইবার ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত আম খেলে হজমশক্তি বৃদ্ধিতেও সহায়তা করে।
তবে বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া অনেক আম রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো হয়। এসব আম খেলে উপকারের চেয়ে ক্ষতির আশঙ্কাই বেশি থাকে। তাই ভালো ও গাছপাকা আম চেনার কৌশল জানা জরুরি।
পাকা ও মিষ্টি আম সাধারণত তুলনামূলক নরম হয়। বাজারে আম কেনার সময় হাতে হালকা চাপ দিয়ে দেখে নিতে পারেন। যদি আম কিছুটা নরম অনুভূত হয়, তাহলে সেটি পাকা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে অতিরিক্ত নরম আম এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ তা বেশি পেকে যেতে পারে।
একটি আম মিষ্টি কি না, তা অনেক সময় এর ঘ্রাণ থেকেই বোঝা যায়। বিশেষ করে আমের বোঁটার কাছ থেকে যদি মিষ্টি ও তীব্র সুগন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় আমটি ভেতর থেকে মিষ্টি।
গাছপাকা আমের বোঁটার কাছে নাক নিলে পরিচিত ও প্রাকৃতিক মিষ্টি ঘ্রাণ পাওয়া যায়। অন্যদিকে রাসায়নিক দিয়ে পাকানো অনেক আমে কোনো গন্ধই থাকে না, কিংবা কৃত্রিম বা ঝাঁজালো গন্ধ অনুভূত হতে পারে। তাই গন্ধহীন আম কেনার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত।
প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের গোড়ার অংশে সাধারণত কিছুটা গাঢ় রঙের আভা দেখা যায়। কিন্তু রাসায়নিক ব্যবহার করে পাকানো আমের রঙ প্রায় পুরো ফলজুড়েই সমান ধরনের হলুদ হয়ে থাকে।
তাই শুধু উজ্জ্বল হলুদ রঙ দেখে আম কেনার সিদ্ধান্ত না নিয়ে এর অন্যান্য বৈশিষ্ট্যও যাচাই করা প্রয়োজন।
গাছপাকা আমে স্বাভাবিক টক-মিষ্টি স্বাদ ও মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ থাকে। কিন্তু রাসায়নিক দিয়ে পাকানো আমে অনেক সময় সেই স্বাভাবিক স্বাদ ও সুবাস পাওয়া যায় না। এমন আম খেলে স্বাদ অনেকটাই ফিকে মনে হতে পারে এবং ঘ্রাণও তুলনামূলক কম থাকে।
তাই বাজার থেকে আম কেনার সময় শুধু বাহ্যিক রঙ নয়, এর গন্ধ, নরমত্ব এবং প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যগুলোও খেয়াল করলে সহজেই ভালো ও গাছপাকা আম বেছে নেওয়া সম্ভব।
/এসএন