বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর কোনো ট্রানজিট টোল আরোপ করবে না বলে জানিয়েছে ইরান। তবে এই প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে বিভিন্ন ধরনের সেবার বিনিময়ে নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ইরানের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। কারণ, আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে টোল না বলে ‘সার্ভিস ফি’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে এ ধরনের চার্জ কতটা বৈধ হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
রোববার (১৪ জুন) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ঘোষণার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা হয়েছে এবং এটি স্থায়ীভাবে টোলমুক্ত থাকবে।
তবে ট্রাম্পের ওই বক্তব্যের একদিন পরই ইরান স্পষ্ট করে জানায়, প্রণালিটি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে এখনো কিছু নির্দিষ্ট চার্জ দিতে হতে পারে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, “আমরা কোনো ট্রানজিট টোল আরোপের পরিকল্পনা করছি না; তবে যেসব সেবা প্রদান করা হবে, তার বিনিময়ে ফি নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, সম্ভাব্য সেবাগুলোর মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, নৌযান চলাচলে সহায়তা এবং সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। তবে কোন কোন সেবা এই ব্যবস্থার আওতায় থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। ফলে এ পথ ব্যবহারকারী জাহাজের ওপর কোনো ধরনের চার্জ আরোপের প্রশ্ন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হচ্ছে।
/এসএন