• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০০ পিএম


‘এটি আমাদের জন্য বড় এক পদোন্নতি’, জাতিসংঘের অনুষ্ঠানে ড. ইউনূসের উচ্ছ্বাস

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২:২৬ পিএম

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে একসময়ের ছোট ও সংকীর্ণ কোণার কক্ষ ছেড়ে এবার বড় পরিসরে মূলধারায় জায়গা পাওয়াকে নিজেদের ‘বিরাট পদোন্নতি’ হিসেবে উল্লেখ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘে আয়োজিত ‘সামাজিক ব্যবসা, তরুণ ও প্রযুক্তি’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টের ১১তম আসরে বক্তব্য দেওয়ার সময় নিজের এই অনুভূতির কথা জানান তিনি।

সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী দিনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান এবং তিমুর-লেস্তের প্রেসিডেন্ট ও ড. ইউনূসের দীর্ঘদিনের বন্ধু জোসে রামোস-হোর্তা। এ ছাড়া ব্রাজিলের মন্ত্রী ওয়েলিংটন দিয়াসসহ বিভিন্ন বিশ্বনেতার উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

ড. ইউনূস রসিকতা করে বলেন, অতীতে এ ধরনের আয়োজনের জন্য জাতিসংঘের একটি ছোট কোণার কক্ষে জায়গা পাওয়া যেত। সেখানে সবাইকে জায়গা দেওয়া সম্ভব হতো না। তবে এবার সঠিক জায়গায় বন্ধুদের উপস্থিতি পাওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বড় কক্ষও পাওয়া গেছে।

উপস্থিত অতিথিদের দিকে তাকিয়ে হাসিমুখে তিনি বলেন, এটি তাদের জন্য একটি বড় পদোন্নতি। তবে ভবিষ্যতে তারা আবার সেই কোণার ছোট ঘরে ফিরে যাবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমান দায়িত্ব নেওয়ায় তাকে স্বাগত জানান অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর মুহূর্তে পুরো সেশনের জন্য ড. খলিলুর রহমানকে পাশে পাওয়া তাদের জন্য বিশেষ সৌভাগ্যের বিষয়।

বর্তমান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ব্যবহৃত বিভ্রান্তিকর ভাষার বিপরীতে মানুষ যেন শান্তি ও ন্যায্যতার একটি স্পষ্ট বার্তা পায়, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন ড. ইউনূস।

বক্তব্যে তিনি ক্ষুদ্রঋণের ৫০ বছর পূর্তি এবং বিশ্বব্যাপী সামাজিক ব্যবসার বিস্তার নিয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে নিউ ইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ‘গ্রামীণ আমেরিকা’র কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেন তিনি।

ড. ইউনূস জানান, ‘গ্রামীণ আমেরিকা’ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ঋণ পৌঁছে দিয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে প্রায় শতভাগ সফলতার রেকর্ড তৈরি করেছে।

বাংলাদেশে সামাজিক ব্যবসার কাঠামোর অধীনে গড়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উদাহরণও তুলে ধরেন তিনি। এর মধ্যে ১৫৩টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, টেলিমেডিসিন নেটওয়ার্ক এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ চক্ষু হাসপাতালের কথা উল্লেখ করেন। লাভের অর্থ পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের কার্যক্রমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষভাগে অধ্যাপক ইউনূস জানান, চাকরিপ্রত্যাশী তৈরির প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার বাইরে গিয়ে আগামী ডিসেম্বরে ‘গ্রামীণ ইউনিভার্সিটি’ যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নেট কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় তরুণদের শুধু সনদ অর্জনের দিকে না নিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেবে বলে জানান তিনি।

বিশ্বের প্রান্তিক মানুষের জীবন পরিবর্তনের এই সম্মিলিত উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশ্বনেতাদের সমর্থনও কামনা করেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

/এসএন