কয়েক মাস আগেও যাকে ‘আমার ছোট কমিউনিস্ট’ এবং ‘পুরোপুরি পাগল’ বলে আক্রমণ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, এবার সেই নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রকাশ্য প্রশংসা করেছেন তিনি।স্থানীয় সময় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্প ও মামদানি বৈঠকে বসেন। প্রায় এক ঘণ্টার এ বৈঠকে নিউইয়র্কের নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন প্রয়োগ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং আবাসন নির্মাণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এটি ছিল দুজনের তৃতীয় সরাসরি বৈঠক।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে মামদানিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প বলেন, ‘আশা করি, আপনি একজন দারুণ মেয়র হবেন।’ একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, মামদানি ভালোভাবেই শুরু করেছেন।তবে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে মামদানির তীব্র সমালোচনা করেছিলেন ট্রাম্প। সে সময় তিনি মামদানিকে ‘মাই লিটল কমিউনিস্ট’ এবং ‘টোটাল নাট জব’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুজনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার ফলে তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।সোমবারের বৈঠকে নিউইয়র্কের কুইন্সের সানিসাইড ইয়ার্ড এলাকায় আবাসন নির্মাণের একটি বড় প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। মামদানি জানান, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় প্রায় ১২ হাজার বাড়ি নির্মাণ এবং ৩০ হাজার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।এ প্রকল্প নিয়ে সিটি হল ও হোয়াইট হাউসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্প ও মামদানি একমত হয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ ফেডারেল অর্থায়নের প্রয়োজন হতে পারে। তবে সোমবারের বৈঠকে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দেননি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে আরও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।মামদানি বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কবাসীর স্বার্থে তিনি যে কারও সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত—এটি তার কাছে মূল বিষয় নয়। বরং নিউইয়র্কের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শহরের জন্য কাজ করার সক্ষমতা ও ইচ্ছাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।অন্যদিকে, বৈঠকের পর ট্রাম্পও নিউইয়র্কের আবাসন ও নগর উন্নয়নের বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে মেয়রের সঙ্গে তার এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।রাজনৈতিক অবস্থানে পার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কের আবাসন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও নগর পরিচালনার মতো বিষয়গুলোতে সহযোগিতার সম্ভাবনাই সোমবারের বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।
/বিএসএস