হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমগুলোর বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে সিএনএনকে বাধা দেওয়ার পর প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন কার্যক্রমের যৌথ টেলিভিশন কভারেজ বা পুল কভারেজে অংশ নেওয়া অন্যান্য নেটওয়ার্কও কভারেজ থেকে সরে দাঁড়ায়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বার্তাসংস্থা আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকো সোমবার ট্রাম্প এবং তাঁর প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। প্রতিষ্ঠান তিনটির অভিযোগ, তাদের ওপর আরোপ করা বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে সংবাদমাধ্যমের অধিকার লঙ্ঘন করছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর এড মার্কি ও ডিক ডারবিন।
এড মার্কি বলেন, গণতন্ত্রের সুষ্ঠু পরিচালনার জন্য সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ‘অপরিহার্য’। তাঁর ভাষ্য, সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা সব ধরনের মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে ‘ভীতিকর প্রভাব’ তৈরি করবে। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘স্বৈরাচারী ও অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যায়িত করেন।
ডিক ডারবিনও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, হোয়াইট হাউস থেকে সিএনএন, পলিটিকো ও এমএসএনবিসির সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করা প্রথম সংশোধনীর ওপর ‘নগ্ন আঘাত’। তাঁর মতে, একটি মুক্ত ও অবাধ সংবাদমাধ্যমের ওপর মার্কিন গণতন্ত্র নির্ভরশীল এবং এই নিষেধাজ্ঞা দ্রুত প্রত্যাহার করা উচিত।
এবিসি, সিবিএস, ফক্স নিউজ, এনবিসি ও সিএনএন সাধারণত পর্যায়ক্রমে একটি টেলিভিশন পুলের দায়িত্ব পালন করে। প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলের সদস্যরা তা অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে ভাগাভাগি করে।
সোমবার সিএনএনকে নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার পর পুলের অন্য সদস্যরাও কভারেজে অংশ না নেওয়ায় এর প্রভাব পড়ে হোয়াইট হাউসের সাউথ লনের একটি অনুষ্ঠানে।
নতুন হেলিপ্যাড উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত ফিতা কাটার অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে ফিতা কাটতে এবং নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেলেও সরাসরি সম্প্রচারিত ফুটেজে তাঁর কোনো বক্তব্য শোনা যায়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে ট্রাম্প সিএনএন, এমএসএনবিসি ও পলিটিকোর সাংবাদিকদের হোয়াইট হাউস চত্বরে প্রবেশে বাধা দেন। শনিবার সকালে নিরাপত্তাকর্মীরা প্রতিষ্ঠান তিনটির সাংবাদিকদের ফিরিয়ে দেন।
সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘ভুয়া খবর গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।’ যুক্তরাষ্ট্রের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে যা কিছু প্রয়োজন, তিনি তা করবেন বলেও জানান।
/এসএন