ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা থেকে সৌদি আরবকে সুরক্ষা দিতে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে ফ্রান্স। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের কাছে এ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
অ্যান্ডি বার্নহাম জানান, সৌদি আরবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরামর্শ নিয়ে তিনি ব্রিটিশ রাজকীয় বিমান বাহিনীকে সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো আকাশে উড্ডয়নরত অবস্থায় জ্বালানি সরবরাহের অনুমতি দিয়েছেন। এই ব্যবস্থাকে ‘এয়ার–টু–এয়ার রিফুয়েলিং’ বলা হয়।
তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই সহায়তা পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক হবে। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এ সহযোগিতা দেওয়া হবে এবং নিয়মিতভাবে এর প্রয়োজনীয়তা ও কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে।
সম্প্রতি সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সঙ্গে হুথিদের সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে সৌদি আরব এই সহযোগিতার আবেদন জানায়। এর পর হুথিরা রিয়াদ লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে আকাশেই সেগুলো ধ্বংস করা হয়।
এর পাশাপাশি হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ মোকা বন্দর এবং লোহিত সাগরের কয়েকটি দ্বীপ দখল করে বাব এল–মানদেব প্রণালীর ওপর নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ১২ শতাংশ বাণিজ্য পরিচালিত হয়।
বার্নহাম বলেন, ব্রিটেন এবং পুরো অঞ্চলের স্বার্থ সুরক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পিএ নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রিটিশ এই মিশন কেবল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা প্রতিহত করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের একটি ভয়েজার বিমান এই কার্যক্রমে অংশ নেবে।
অন্যদিকে এএফপিকে এক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের ইয়ানবুতে দেশটির তেল কোম্পানি আরামকোর স্থাপনা এবং ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে ফ্রান্স।
তবে ফ্রান্সের এই সহায়তার অর্থ হুথিদের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া নয় বলেও ওই কূটনৈতিক সূত্রটি স্পষ্ট করেছে।
/এসএন