শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘টাইফুন দুজুয়ান’ জাপানে আঘাত হানার পর ১৬ লাখেরও বেশি বাসিন্দার জন্য স্থানান্তরের পরামর্শ জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) কিয়োদো নিউজের বরাতে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
সোমবার জাপানের রাজধানীর কাছের কাৎসুরা এলাকা থেকে ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে টাইফুনটির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটারে পৌঁছায়। এতে হাজার হাজার ঘরবাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে মঙ্গলবার ভোরের দিকে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে উপকূল থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে অ্যালিউশিয়ান দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রের দিকে সরে যেতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
জেএমএর কর্মকর্তা তাকুয়া হোসোমি জানান, টাইফুনটি উত্তর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা জারি থাকা এলাকাগুলোতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ঝড়ের কারণে সোমবার জাপান এয়ারলাইন্সের ১৩৫টি এবং অল নিপ্পন এয়ারওয়েজের ১৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। ফলে বিমানবন্দরে অসংখ্য যাত্রী আটকা পড়েন। একই সঙ্গে টোকিও ও ওসাকার মধ্যে চলাচলকারী বুলেট ট্রেনসহ বেশ কয়েকটি রেল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয় বলে জানিয়েছে জাপান রেলওয়ে।
বৃষ্টিপাত ও বাতাসের তীব্রতা নিয়ে আগেই সতর্ক করেছিল জেএমএ। সংস্থাটি জানিয়েছিল, মঙ্গলবার পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ সেপ্টেম্বর মাসের গড় বৃষ্টিপাতকে ছাড়িয়ে গিয়ে নতুন রেকর্ড তৈরি করতে পারে।
প্রবল বৃষ্টির কারণে ঐতিহাসিক স্থান কামাকুরা স্টেশন এবং টোকিওর পূর্বাঞ্চলীয় ইচিকাওয়ার বিভিন্ন সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। কামাকুরার মেয়র তাকাসি মাতসুও গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে জানিয়ে সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের আহ্বান জানান।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে টোকিও গেম শো, একটি প্রধান আউটডোর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল এবং চিবাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা একটি বেসবল ম্যাচও বাতিল করা হয়েছে।
সাধারণত গ্রীষ্মের শেষভাগ ও শরতের শুরুতে জাপানে প্রায়ই টাইফুন আঘাত হানে। চলতি বছরের ২৫তম শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ‘দুজুয়ান’ জাপানে আঘাত হেনেছে।
/এসএন