• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৯ পিএম


কঙ্গোতে ইবোলা আতঙ্ক, জরুরি অবস্থা ঘোষণা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৭ মে ২০২৬ ১০:০১ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে ইবোলা প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৬টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং ৮০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। যদিও এটি এখনো মহামারির পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, বর্তমানে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের চেয়ে বাস্তবে পরিস্থিতি আরও বড় হতে পারে এবং স্থানীয় ও আঞ্চলিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী ‘বুন্ডিবুগিও ভাইরাস’ নামের ইবোলার একটি স্ট্রেইন, যার বিরুদ্ধে এখনো কোনো অনুমোদিত টিকা বা নির্দিষ্ট ওষুধ নেই।

রোগটির প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, পেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও গলা ব্যথা। পরে বমি, ডায়রিয়া, শরীরে র‌্যাশ এবং রক্তক্ষরণের মতো জটিলতা দেখা দেয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত আটটি পরীক্ষাগারে নিশ্চিত সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া সন্দেহভাজন রোগী ও মৃত্যুর ঘটনা ইতুরি প্রদেশের বুনিয়া, মঙ্গওয়ালু ও রওয়ামপারা অঞ্চলে পাওয়া গেছে।

এদিকে রাজধানী কিনশাসায়ও একটি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইতুরি থেকে ফিরে আসা এক রোগীর মাধ্যমে ছড়িয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভাইরাসটি ইতোমধ্যে প্রতিবেশী দেশ উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দুইজনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে এবং ৫৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মারা গেছেন।

উগান্ডা সরকার জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তি কঙ্গোর নাগরিক ছিলেন এবং তার মরদেহ ইতোমধ্যে কঙ্গোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, কঙ্গোর চলমান নিরাপত্তা সংকট, মানবিক দুর্যোগ, উচ্চ জনসংখ্যা চলাচল এবং অনানুষ্ঠানিক চিকিৎসা কেন্দ্রের আধিক্যের কারণে সংক্রমণ আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সংস্থাটি কঙ্গো ও উগান্ডাকে জরুরি অপারেশন সেন্টার চালুর পরামর্শ দিয়েছে, যাতে সংক্রমণ শনাক্ত, কনট্যাক্ট ট্রেসিং এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেড্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংক্রমণের প্রকৃত বিস্তার নিয়ে “উল্লেখযোগ্য অনিশ্চয়তা” রয়েছে।

ইবোলা প্রথম শনাক্ত হয় ১৯৭৬ সালে বর্তমান কঙ্গো অঞ্চলে। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইবোলার গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং এখন পর্যন্ত এর কোনো নির্দিষ্ট নিরাময় নেই।

/এএসএফ