• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম


হান্টাভাইরাস সংক্রমণ: কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হচ্ছে প্রমোদতরীর যাত্রীদের

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ মে ২০২৬ ৯:৫০ পিএম

স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের তেনেরিফ উপকূলে নোঙর করা হান্টাভাইরাস আক্রান্ত একটি প্রমোদতরী থেকে যাত্রী ও ক্রুদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এমএস হন্ডিয়াস নামের ওই জাহাজ থেকে ধাপে ধাপে সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

রোববার (১০ মে) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

স্পেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া বলেছেন, উদ্ধার অভিযান স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে চলছে এবং এখন পর্যন্ত যাত্রীদের মধ্যে নতুন কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

প্রথম দফার উদ্ধার অভিযানে যাত্রীদের মাস্ক পরে জাহাজের ডেকে ও জানালার পাশে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যাত্রীদের জাতীয়তা অনুযায়ী ভাগ করে ছোট নৌকায় করে উপকূলে নেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য চার্টার্ড বিমান প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ইতোমধ্যে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, গ্রিস ও জার্মানিসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের হ্যাজম্যাট স্যুট পরিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইসোলেশন প্রোটোকলও অনুসরণ করা হচ্ছে। সর্বশেষ ফ্লাইটটি সোমবার অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এক মাস আগে প্রথম সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর জাহাজটি গ্রানাদিয়া বন্দরে প্রবেশ করে। এরপর থেকেই সেটিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হয়।

তেনেরিফ উপকূলে প্রায় এক নটিক্যাল মাইল এলাকা জুড়ে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে কর্তৃপক্ষ। সেখানে সামরিক পুলিশ টহল দিচ্ছে।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে যাত্রীদের চিকিৎসার জন্য বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নিবিড় পরিচর্যা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে। সংস্থাটি একে “কঠোর ও কার্যকর প্রতিক্রিয়া” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

ডব্লিউএইচও প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, আতঙ্ক ছড়ানোর বদলে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হান্টাভাইরাস সাধারণত ইঁদুরের মাধ্যমে ছড়ায় এবং মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ খুবই বিরল। তবে প্রমোদতরীর মতো সীমিত পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকতে পারে।

এ পর্যন্ত জাহাজটিতে তিনজন যাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। যদিও কর্তৃপক্ষ বলছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি এখনো খুব কম।

স্পেন সরকার জানিয়েছে, যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে এবং পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এটি কোভিড-১৯ এর মতো দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভাইরাস নয়। সংক্রমণের জন্য ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ প্রয়োজন হয়। তাই সতর্কতা বজায় রাখলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

এদিকে স্থানীয় জনগণ এবং বন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুঁকি সীমিত হলেও সতর্কতা অব্যাহত থাকবে।

সব মিলিয়ে, দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে আটকে থাকা যাত্রীদের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এখন শুরু হচ্ছে কঠোর কোয়ারেন্টাইন ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া।