• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৩০ এএম


‘সহযোগিতায় উভয়ের লাভ, সংঘাতে ক্ষতি’—ট্রাম্পকে শি জিং পিং

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৪ মে ২০২৬ ৫:০৯ পিএম

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিং পিং বলেছেন, স্থিতিশীল চীন-মার্কিন সম্পর্ক শুধু দুই দেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই ইতিবাচক। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

বৈঠকের শুরুতে শি জিং পিং বলেন, “যখন আমরা সহযোগিতা করি, উভয়পক্ষ লাভবান হয়। আর যখন আমরা মুখোমুখি অবস্থানে যাই, তখন দুই পক্ষই ক্ষতির শিকার হয়।”

বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশের নেতাদের এই শীর্ষ সম্মেলন বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে। এ সময় চীনা প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক বাণিজ্য আলোচনারও প্রশংসা করেন।

স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে চীন। এ ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে বেইজিংয়ের বিরোধ চলছে। কারণ, তাইওয়ানের অন্যতম প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয়তা কমেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমন পরিস্থিতিতে চীনের মতো প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রে তার সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর আগে ২০১৭ সালে নিজের প্রথম মেয়াদে সর্বশেষ চীন সফরে গিয়েছিলেন তিনি।

বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ পৌঁছালে ট্রাম্পকে স্বাগত জানান শি জিং পিং। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়া হয়। শিশুদের ফুল এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা নাড়িয়ে অতিথিকে অভ্যর্থনা জানাতেও দেখা যায়।

পরে বৈঠকে ট্রাম্প শি জিং পিংকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনি একজন মহান নেতা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমার মুখে এ কথা শুনতে পছন্দ করে না। তবু আমি বলি।”

তিনি আরও বলেন, “অনেকে বলছেন, এটি হয়তো এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় শীর্ষ সম্মেলন হতে চলেছে।” একইসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “আপনার সঙ্গে থাকতে পারাটা সম্মানের। আপনার বন্ধু হতে পারাটাও সম্মানের। চীন-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হতে চলেছে।”

ব্যবসা-বাণিজ্যের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের নিয়েও চীন সফরে গেছেন ট্রাম্প। তাদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, টেসলা ও স্পেসএক্স প্রধান ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার প্রধান জেনসেন হুয়াং। তারাও দুই নেতার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে মার্কিন শিল্প খাতের জন্য চীনের বাজার আরও উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান ট্রাম্প।

বাণিজ্যের পাশাপাশি বৈঠকে ইরান ইস্যুতেও আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টের কাছে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেন তিনি ইরানকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার বিষয়ে রাজি করাতে ভূমিকা রাখেন।

তবে বিশ্লেষকদের অনেকের মতে, তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করা কিংবা ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতি সমর্থন বন্ধে শি জিং পিং কতটা আগ্রহী হবেন, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

/এসএন