দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি বেসামরিক ভবনে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী বোমা হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় একটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের শুক্রবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে চালানো ওই হামলায় বাড়ির মালিক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান নিহত হন। পরিবারের আরও দুই সন্তান প্রাণে বেঁচে গেলেও হামলার পর আশপাশের প্রায় ২০টি পরিবার এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি কর্মকর্তারা।
সংবাদপত্রটি ভিডিও ফুটেজ, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত ছবি এবং স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, বিস্ফোরণে সৃষ্ট গর্তের আকার দেখে ধারণা করা হচ্ছে, হামলায় প্রায় ২ হাজার পাউন্ড বা ৯০০ কেজি ওজনের একটি বোমা ব্যবহার করা হয়েছে। অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত মার্ক-৮৪ ধরনের বোমা হতে পারে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হামলার সময় ও স্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এক মার্কিন কর্মকর্তা দ্য জেরুজালেম পোস্টকে জানান, ওই রাতে ইরানে পরিচালিত হামলার পরিধি আগের দিনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। তার ভাষায়, এসব হামলা ছিল ব্যাপক ও বিস্তৃত এবং এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটির আশপাশে কোনো সামরিক স্থাপনা ছিল না। হামলার পরও ইরান কোনো সামরিক হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ কেন্দ্রস্থল থেকে ২০০ ফুটেরও বেশি দূরে ছিটকে পড়তে দেখা যায়।
এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বেসামরিক হতাহতের অভিযোগ তারা পর্যালোচনা করছে। সেন্টকমের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, তারা এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনোই বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে কিংবা বেসামরিকদের সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি সেন্টকম।
সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস
/এএসএফ