অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় শিশু হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটি বলেছে, চলমান সহিংসতায় শিশুরা এক “অসহনীয় মূল্য” দিচ্ছে।মঙ্গলবার ইউনিসেফের মুখপাত্র জেমস এল্ডার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে অন্তত ৭০ জন ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে।
ইসরাইলি বাহিনীর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গড়ে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একজন শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।তিনি বলেন, গত কয়েক মাসে আরও প্রায় ৮৫০ শিশু আহত হয়েছে। আহতদের অধিকাংশের শরীরে সরাসরি গুলির ক্ষত পাওয়া গেছে।
ইউনিসেফের তথ্যমতে, এসব শিশু মৃত্যুর প্রায় ৯৩ শতাংশের জন্য ইসরাইলি বাহিনী দায়ী।ইউনিসেফ আরও জানায়, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে গত ২০ বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার হার ছিল সর্বোচ্চ। এসব হামলায় শিশুদের গুলি, ছুরিকাঘাত, মারধর এবং মুখে মরিচের ঝাঁঝালো স্প্রে ব্যবহারের মতো ঘটনার প্রমাণ নথিভুক্ত হয়েছে।সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সামরিক অভিযান ও সহিংসতার পাশাপাশি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন বিধিনিষেধ শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।
ঘরবাড়ি উচ্ছেদ, পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং চলাচলে কড়াকড়ির কারণে বড় সংখ্যক ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই অন্তত ১,১০০ শিশুসহ প্রায় ২,৫০০ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা গত বছরের মোট বাস্তুচ্যুতির সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইল–হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পশ্চিম তীরেও সহিংসতা চরম আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন অভিযানে এখন পর্যন্ত ১,০৭০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের পাল্টা হামলায় অন্তত ৪৬ জন ইসরাইলি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘ বলেছে, পশ্চিম তীরে শিশুদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ এখন মারাত্মক অনিশ্চয়তার মুখে রয়েছে।
সূত্র: দ্য ডন
/বিএসএস