• ঢাকা
  • রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৪ পিএম


ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ মমতা, বললেন ১০০ আসনে কারচুপি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৫ মে ২০২৬ ১২:২০ এএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গঠনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের পর এই ফলাফলকে ‘অনৈতিক’ বলে মন্তব্য করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপির বিরুদ্ধে শতাধিক আসন ‘লুটে’র অভিযোগ তোলেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একযোগে ১০০টিরও বেশি আসনে কারচুপি করেছে। তার ভাষায়, “নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি কোনো নৈতিক জয় নয়; বরং কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তায় যা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অবৈধ।”

পরাজয় মেনে না নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াব।”

এদিকে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচনে বিজেপির জয়কে স্বাগত জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল সুশাসনের রাজনীতির জয় হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার আগ থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। দলটির অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার, মগরাহাট পূর্ব ও পশ্চিমসহ কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কমিশন শংসাপত্র দিতে বিলম্ব করছে।

গণনা চলাকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গণনা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং সেখানে গণনার পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৪৮টি আসনের তুলনায় অনেক বেশি। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। এছাড়া কংগ্রেস এবং হুমায়ুন কবিরের এজেইউপি দুটি করে আসনে জয় পেয়েছে। সিপিআই(এম) ও এআইএসএফ একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে।

এই ফলাফলের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং রাজ্যের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

/এসএন