• ঢাকা
  • সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম


১৫ বছরের শাসনের অবসান

পশ্চিমবঙ্গে ঐতিহাসিক রায়, মমতার পরাজয়ে বিজেপির উত্থান

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৪ মে ২০২৬ ১১:৪৫ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত আর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সারাদিনের ভোট গণনা শেষে স্পষ্ট হয়ে যায়, গেরুয়া ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের ক্ষমতার ভিত্তি। বিজেপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাংলার ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন—এমন বার্তাই সামনে আসে।

দিনভর গণনার পর ফলাফলের প্রবণতায় দেখা যায়, বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে এবং তৃণমূল বড় ধাক্কা খাচ্ছে। এই ফলাফল শুধু আসনসংখ্যার হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।

নির্বাচনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য দেখা যায় কলকাতার সাখাওয়াত মেমোরিয়াল গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুলে, যেখানে ভোটগণনার একাধিক ধাপ শেষে পরিষ্কার হতে থাকে যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজ আসনেই পিছিয়ে পড়ছেন।

১৭ রাউন্ড গণনা শেষে কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় তার পরাজয়। এই ফলাফল কেবল একটি আসনের নয়, বরং পুরো নির্বাচনের প্রতীকী চিত্র হিসেবে সামনে আসে—দীর্ঘদিনের ক্ষমতাসীন নেতৃত্বকে সরিয়ে নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটছে।

ফলাফল স্পষ্ট হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গণমাধ্যমের সামনে এসে বলেন, “বিজেপি ১০০ টা সিট লুট করেছে।” তার এই বক্তব্যে নির্বাচনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার ইঙ্গিত থাকলেও তিনি গণতান্ত্রিক রায়কে সরাসরি অস্বীকার করেননি। বরং তার বক্তব্যে পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও উঠে আসে।

অন্যদিকে দিল্লিতে বিজেপির সদর দপ্তরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। ধুতি পরে বাঙালি ঐতিহ্যের প্রতীকী উপস্থিতি জানান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই রেকর্ড জয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অসংখ্য কর্মীর পরিশ্রম ও সংগ্রাম ছাড়া সম্ভব হত না। আমি তাদের সকলকে প্রণাম জানাই। বহু বছর ধরে তারা মাটিতে থেকে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেছেন এবং আমাদের উন্নয়নের এজেন্ডা মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তারাই আমাদের দলের আসল শক্তি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ ঐতিহাসিক, অভূতপূর্ব দিন। বিজেপির কর্মীরা কামাল করেছে।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, “গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় স্বাভাবিক। এটা গণতন্ত্রের জয়, সংবিধানের জয়।” তার বক্তব্যে বিজয়ের উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি রাজনৈতিক সংযমও প্রতিফলিত হয়।

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাংলায় রাজনৈতিক হিংসায় অনেক জীবন নষ্ট হয়েছে, এ বার বদলা নয়, বদল।” এই মন্তব্যকে অনেকেই ভবিষ্যৎ রাজনীতির দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখছেন।

এই নির্বাচনের ফলাফলে একদিকে তৃণমূল শিবির পরাজয়ের ধাক্কা সামলে অভিযোগ ও আত্মসমালোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে বিজেপি এই জয়কে সংগঠনের শক্তি, উন্নয়ন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের ম্যান্ডেট হিসেবে তুলে ধরছে।

সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে ১৭ রাউন্ড গণনার পর যে চিত্র স্পষ্ট হয়েছিল, তা পুরো রাজ্যের ফলাফলেরই প্রতিফলন। এই নির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, বরং ১৫ বছরের শাসনের সামগ্রিক মূল্যায়ন। সেই মূল্যায়নে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষেই মত দিয়েছেন।

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই ফলাফল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপির উত্থান মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা।

এই বাস্তবতায় ভোটারদের বার্তা স্পষ্ট—তারা পরিবর্তন চায়, ফলাফল চায় এবং সেই শক্তিকেই বেছে নেয়, যাদের ওপর তারা ভবিষ্যতের আস্থা রাখতে পারে।

/এস এন