হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ছাত্রনেতা দেবেন্দ্রনাথ মাহাতো রোববার রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছেন।
এর আগে ২৯ জুলাই থেকে একই স্টেডিয়ামে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচিতে তারা ‘জেপিএসসিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিন’, ‘ছাত্র ঐক্য দীর্ঘজীবী হোক’ এবং ‘হেমন্ত সোরেনের লজ্জা’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, জেপিএসসি পরীক্ষায় অতীতেও একাধিকবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে। এবার পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিলেও তাতে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনকারীরা।
জেপিএসসি পরীক্ষার্থী রাহুল কুমার ক্রান্তি বলেন, জেএসএসসি-সিজিএল প্রশ্নপত্র ফাঁসের আগের তদন্তগুলোতেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার আশঙ্কা, বর্তমান তদন্তও কয়েক মাস পর ধামাচাপা পড়ে যেতে পারে।
তিনি বলেন, “চলমান সিআইডি তদন্তের ওপর থেকে আমরা বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। গত সাত বছরে জেপিএসসি ও জেএসএসসির অধীনে হওয়া সব নিয়োগ পরীক্ষার সিবিআই তদন্ত চাই।”
আন্দোলনকারীরা ১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ১৪তম জেপিএসসি সম্মিলিত প্রাথমিক পরীক্ষা বাতিল, অনিয়মের ঘটনায় সিবিআই ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর মতো কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ ছাড়া, ওএমআর শিটে ‘চেষ্টা করা হয়নি’ নামে পঞ্চম একটি বিকল্প যুক্ত করার দাবিও তুলেছেন তারা।
গিরিডিহ জেলার শিক্ষার্থী অঙ্কিত কুমার বলেন, নিয়োগ সংস্থাগুলোর অনিয়মের কারণে হাজারো পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। তাদের একমাত্র দাবি, মেধার ভিত্তিতে সবার জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা।
আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার সন্ধ্যায় রাঁচিতে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী মশাল মিছিল বের করেন। জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়াম থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি অ্যালবার্ট এক্কা চক পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। সেখানে তারা জেএমএম নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।
আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দ্রুত দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে ঝাড়খণ্ড বিধানসভা ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চললেও এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি। তবে এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সূত্র: দ্য হিন্দু
/এসএন