রোববার (২ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ‘জান দেব, জুলাই দেব না’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশ সন্ত্রাসের জন্য প্রস্তুত নয়। ইনশাআল্লাহ আমরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াব এবং লড়াই করব। এর পরিণতি দুটি হতে পারে—হয় জেলে যাব, নয়তো কবরে যাব। কিন্তু কারও সঙ্গে আপস করা হবে না এবং কারও কাছে মাথা নত করা হবে না। এটি আজাদীর বাংলাদেশ, এটি ওসমান হাদীর বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, ভারতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে বক্তব্য দেন, বাংলাদেশেও সেই ধরনের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। তার দাবি, অনেকেই বলছেন দেশে আবার ফ্যাসিবাদ ফিরে আসছে। তবে তার মতে, ফ্যাসিবাদ নতুন করে আসেনি; এটি আগে থেকেই ছিল এবং এখন তারেক রহমান সেই অবস্থানে রয়েছেন। তিনি বলেন, আগে ওই অবস্থানে ছিলেন শেখ হাসিনা। প্রত্যাশা ছিল ফ্যাসিবাদের কাঠামো ও চরিত্র—উভয়ের পরিবর্তন ঘটবে এবং ব্যবস্থাগত সংস্কারের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ে উঠবে। কিন্তু তারেক রহমান সেই পথ অনুসরণ না করে সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে পাটওয়ারী বলেন, ওই আন্দোলনের পর একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যর্থতার সেই জায়গা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে গণতন্ত্রের চর্চা নিশ্চিত করতে চাইলেও আবারও বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির একটি নির্বাচনী টিমে থাকা সামসুল আলমকে বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, পাঁচ বছর পরের নির্বাচনকে সামনে রেখে এখন থেকেই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে সচিব হিসেবে থেকে তিনি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আরও বলেন, তারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র চায় না; বরং ‘আয়তন্ত্র’ চায় এবং একটি ফ্যাসিবাদী কাঠামো বজায় রাখতে চায়। তিনি বলেন, শুরু থেকেই তারা রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তা বাস্তবায়ন হয়নি। এখন আগামী নির্বাচন ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির ভোটিং ক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় এনে একজন দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করার চিন্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার মতে, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদ কোনোভাবেই দলীয় হওয়া উচিত নয়। সরকার যদি দলীয় রাষ্ট্রপতি নিয়োগের পথে হাঁটে, তাহলে রাষ্ট্রপতির মর্যাদাপূর্ণ পদটি কলঙ্কিত হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দাবিতে সরাসরি ভোটের দাবি তোলা হবে এবং কোনো দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বসতে দেওয়া হবে না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গে এনসিপির এই নেতা বলেন, জুলাই সনদ বিএনপিকে বাস্তবায়ন করতেই হবে। বিএনপি যদি এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাহলে তাদের সেই সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, বিএনপি একটি সংশোধনী কমিটি গঠন করেছে। তবে বিরোধী দল সেখানে অংশ না নিয়ে একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যেহেতু জুলাই সনদ সংশোধন করা হয়নি এবং নতুন করে সংশোধনী কমিটি করা হয়েছে, তাই এই লড়াই এখন রাজপথে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, তারা সংসদের সামনে কর্মসূচি পালন করবেন এবং যেদিন সেখানে উপস্থিত হবেন, সেদিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে ছাড়বেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম), বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।
/এসএন