• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৮ এএম


এক ভিসায় মধ্যপ্রাচ্যের ৬ দেশে ঘোরার সুযোগ, আসছে ‘গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১৩ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভ্রমণপিপাসুদের জন্য বড় সুখবর। মধ্যপ্রাচ্যের ছয় দেশে ভ্রমণের জন্য নতুন ধরনের একীভূত পর্যটন ভিসা শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে। ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ চালু হলে একটি মাত্র ভিসা ব্যবহার করে ছয়টি উপসাগরীয় দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন আন্তর্জাতিক পর্যটকেরা।

গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই জানিয়েছেন, এই উদ্যোগ শিগগিরই বাস্তবায়নের পথে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, একীভূত এই ভিসা চালু হলে পর্যটকেরা সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, ওমান ও কুয়েত—এই ছয় দেশে একটি ভিসার মাধ্যমেই ভ্রমণ করতে পারবেন। ইউরোপের শেনজেন ভিসা ব্যবস্থার আদলে এই ভিসার মাধ্যমে ছয়টি দেশে যাতায়াতের সুযোগ থাকবে।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রিয়াদে অনুষ্ঠিত ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড হিস্ট্রি ডায়ালগ ২০২৬’-এর একটি বিশেষ অধিবেশনে জিসিসি মহাসচিব এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তবে ভিসাটি ঠিক কবে চালু হবে, এর আবেদন ফি কত হবে, কতদিনের জন্য কার্যকর থাকবে কিংবা আবেদনের প্রক্রিয়া কী হবে—এসব বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

এর আগে খালিজ টাইমস জানিয়েছিল, একীভূত ভিসাটি অনুমোদন করা হয়েছে। এখন এটি বাস্তবায়নের কাজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করছে।

একীভূত এই পর্যটন ভিসা চালুর উদ্যোগের সূত্রপাত ২০২৩ সালের অক্টোবরে। সে সময় জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর পর্যটনমন্ত্রীরা সর্বসম্মতভাবে একীভূত পর্যটন ভিসার প্রস্তাব অনুমোদন করেন। পরের মাসে পরিষদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরাও একীভূত উপসাগরীয় পর্যটন ভিসার অনুমোদন দেন। এর ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের জন্য আরও এক ধাপ এগিয়ে যায়।

২০২৫ সালের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থমন্ত্রী আবদুল্লাহ বিন তৌক আল মাররি খালিজ টাইমসকে জানিয়েছিলেন, একক উপসাগরীয় পর্যটন ভিসা অনুমোদিত হয়েছে এবং এখন এটি বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।

তখন আল মাররি এই একক ভিসা ব্যবস্থাকে আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলকে একটি একক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে সে সময়ও ভিসাটি চালুর নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। একই সঙ্গে এর খরচ ও মেয়াদও প্রকাশ করা হয়নি।

জিসিসি মহাসচিব আল-বুদাইউই এ ধরনের আরও কয়েকটি প্রকল্পের কথা তুলে ধরেছেন, যেগুলোর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সংহতি বাড়ানো এবং মানুষের চলাচল আরও সহজ করা।

এর একটি উদাহরণ হিসেবে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মধ্যে চালু হওয়া আকাশপথের ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেল’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন।

রিয়াদে অনুষ্ঠিত সংলাপে আল-বুদাইউই বলেন, ‘আপনি বাহরাইনে পাসপোর্টের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করবেন এবং আবুধাবি, দুবাই, শারজাহ বা যেকোনো শহরে পৌঁছানোর পর অভিবাসন কর্মকর্তার বাধা না পেয়েই প্রবেশ করতে পারবেন।’

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ওয়ান-পয়েন্ট এয়ার ট্রাভেলার্স’ প্রকল্পের পরীক্ষামূলক ধাপ চালু করে। প্রাথমিকভাবে আবুধাবির জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বাহরাইন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়।

এই ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক সংযোগ, বায়োমেট্রিক পরিচয় যাচাই এবং স্বয়ংক্রিয় প্রবেশপথ ব্যবহার করে যাত্রীদের তথ্য আগেই যাচাই করা হয়। ২০২৫ সালের নভেম্বরে জিসিসি ‘ওয়ান-স্টপ’ ভ্রমণ প্রক্রিয়া চালুর ব্যবস্থা অনুমোদন করে। পরীক্ষামূলকভাবে এটি পরিচালনার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনকে বেছে নেওয়া হয়।

এই উদ্যোগের ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকেরা গন্তব্যে পৌঁছে পুনরায় অভিবাসন ও অন্যান্য যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিবর্তে যাত্রার আগেই একটি নির্দিষ্ট স্থানে এসব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে পারবেন।

তবে ‘সিঙ্গেল-পয়েন্ট’ ভ্রমণ ব্যবস্থা এবং ‘জিসিসি গ্র্যান্ড ট্যুরিস্ট ভিসা’ দুটি আলাদা প্রকল্প। প্রথমটি মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর নাগরিকদের যাতায়াত আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একীভূত পর্যটন ভিসার লক্ষ্য হলো বিদেশি পর্যটকদের জন্য পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ভ্রমণ আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করে তোলা।

/এএসএফ