• ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩০ এএম


নিষে’ধাজ্ঞার মধ্যেও মা’র্কিন ব্যাংকের মাধ্যমে ৯ বিলিয়ন ডলার সরাল ই’রা’ন

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:০৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালে দেশটির ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে ইরানের প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ তহবিল স্থানান্তরিত হয়েছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য সামনে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমেরিকান ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংবাদদাতা ব্যাংকিং সম্পর্ক থাকা বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ইরানের অর্থ মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ করেছে। এসব অর্থ বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শেল কোম্পানি বা কাগজে-কলমে থাকা প্রতিষ্ঠান এবং কারেন্সি এক্সচেঞ্জের বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঘুরিয়ে নেওয়া হয়।

এমন সময়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করেছে। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা করা কোম্পানি ও দেশগুলোকে মার্কিন ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার বিষয়েও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।

অন্যদিকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও অর্থের প্রবাহ সচল রাখতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে ইরান। দেশটির আয়ের প্রধান উৎস তেল শিল্প। মার্কিন চাপের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি সীমিত হয়ে পড়লেও তেহরানের হাতে ট্যাংকারে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ ক্রুড অয়েল বা আধা-পরিশোধিত তেল রয়েছে। এর বড় একটি অংশ এশিয়ার জলসীমায়, বিশেষ করে মালয়েশিয়ার কাছাকাছি এলাকায় মজুদ রাখা হয়।

ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। ইরানের মোট তেল রপ্তানির ৮০ শতাংশের বেশি চীনে যায়। কেপলার-এর তথ্যের বরাত দিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত আগস্টে চীন প্রতিদিন ৫ লাখ ব্যারেলের বেশি ইরানি তেল আমদানি করেছে।

সমুদ্রপথে এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের মাধ্যমেও তেলের প্রকৃত উৎস আড়াল করতে পারে ইরান। নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত কোনো ট্যাংকার থেকে তেল চীনে পৌঁছানোর আগেই তা অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা হয়। এতে আমদানির নথিতে তেলকে অন্য কোনো উৎস থেকে এসেছে বলে দেখানোর সুযোগ তৈরি হয়।

ভোর্টেক্সার হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে এশিয়ার জলসীমায় ভাসমান গুদাম বা ফ্লোটিং স্টোরেজে প্রায় ৮ কোটি ব্যারেল ইরানি ক্রুড অয়েল রয়েছে। এসব তেলের বাজারমূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার হতে পারে।

ইরান চীনের সঙ্গে বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের ওপর নির্ভরতাও কমিয়েছে। তেল বাণিজ্যের লেনদেন ডলারের পরিবর্তে চীনা ইউয়ানে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ইরান এসব ইউয়ান ব্যবহার করে চীনা পণ্য ও সেবা কিনতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ইরানের অবকাঠামোগত প্রকল্পে কাজ করা চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বিনিময় হিসেবেও তেল লেনদেন করা হয়।

এর পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহারও বাড়িয়েছে ইরান। গবেষকদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, বাণিজ্য এবং অস্ত্রসহ অন্যান্য পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ইরান বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করেছে। এমনকি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস চীনা ক্রেতাদের কাছ থেকে তেল বিক্রির অর্থ গ্রহণের ক্ষেত্রেও ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ ব্যবহার করেছে।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি ব্যয় পরিশোধ, সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তা করার জন্য ইরানের এখনো মার্কিন ডলার ও অন্যান্য প্রধান মুদ্রার প্রয়োজন রয়েছে।

এই প্রয়োজন মেটাতে তেহরান হংকং ও দুবাইয়ের মতো বড় আর্থিক কেন্দ্রে শেল কোম্পানি ও এক্সচেঞ্জ হাউসের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ইরানি তেল ও অন্যান্য রপ্তানি থেকে পাওয়া আয়কে ডলার, ইউরো এবং আমিরাতি দিরহামে রূপান্তরে সহায়তা করে। একই সঙ্গে অর্থের সঙ্গে ইরানের সরাসরি সংশ্লিষ্টতাও গোপন রাখে।

আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় ইরানের অর্থ প্রবেশ ঠেকাতে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ব্যাংক ও কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আসছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাংক বা কোম্পানির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও ইরানের পুরো আর্থিক নেটওয়ার্ককে সম্পূর্ণভাবে অচল করা সম্ভব হচ্ছে না।

/এসএন