• ঢাকা
  • শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪৯ এএম


পাড়ার গসিপ বিক্রি করেই দুই বাড়ির মালিক ৬৭ বছরের নারী

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:০১ পিএম

পাড়ার মানুষের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহল থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই কৌতূহলকে পেশায় পরিণত করেছেন কলম্বিয়ার ৬৭ বছর বয়সী এক নারী। প্রতিবেশীদের সম্পর্ক, পারিবারিক ঝামেলা, ঝগড়া কিংবা গোপন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রি করেন তিনি। তার দাবি, এই অদ্ভুত ব্যবসা করেই তিনি দুটি বাড়ি কিনেছেন।

গালফ টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কলম্বিয়ার কুইন্দিও বিভাগের আর্মেনিয়া শহরে মিরিয়ামের বাড়ি। কনটেন্ট নির্মাতা লেডি দানিয়েলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই পেশা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।

সাক্ষাৎকারে নিজেকে পেশাদার ‘চিসমোসা’ হিসেবে পরিচয় দেন মিরিয়াম। স্প্যানিশ ভাষায় ‘চিসমোসা’ বলতে গসিপপ্রিয় বা পরচর্চাকারী নারীকে বোঝানো হয়। নিজের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি গসিপ ভালোবাসি।’

মিরিয়াম জানান, আশপাশে কী ঘটছে, কে কার সঙ্গে সম্পর্কে জড়াচ্ছেন, কার সংসারে সমস্যা চলছে কিংবা প্রতিবেশীদের মধ্যে কোথায় ঝগড়া হচ্ছে—এসব বিষয়ে তিনি নিয়মিত নজর রাখেন। পরে এসব তথ্য যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের কাছে অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করেন।

প্রতিবেশীদের বিষয়ে সাধারণ বা ছোটখাটো তথ্যের জন্য কয়েক হাজার কলম্বিয়ান পেসো নেন মিরিয়াম। তবে কোনো তথ্য বেশি সংবেদনশীল বা বিস্তারিত হলে সেটির মূল্যও বেড়ে যায়। তিনি জানান, একবার এক ব্যক্তি তার স্ত্রী ভ্রমণে যাওয়ার সময় তার পরকীয়ার বিষয়টি গোপন রাখার বিনিময়ে মিরিয়ামকে ৭ লাখ কলম্বিয়ান পেসো দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

এই কাজের ক্ষেত্রে নিজের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাকেই দেখেন মিরিয়াম। বাড়ির বাইরে সময় কাটানোর সময় তিনি আশপাশের মানুষের কর্মকাণ্ড খেয়াল করেন এবং তাদের কথাবার্তাও শোনেন। সংগ্রহ করা তথ্য যাতে ভুলে না যান, সেজন্য সঙ্গে একটি নোটবুক রাখেন তিনি। তার মতে, এতে বিভিন্ন ঘটনার বিবরণ নির্ভুলভাবে মনে রাখা যায়। একই সঙ্গে ক্রেতাদের কাছে তথ্য দেওয়ার সময় তার দাবির পক্ষে প্রমাণ দেখানোও সহজ হয়।

সাক্ষাৎকারের সময় নিজের বাড়িতে রাখা একটি বোর্ডও দেখান মিরিয়াম। সেখানে প্রতিবেশীদের ছবি এবং তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য লেখা রয়েছে। কিছু ছবিতে পরকীয়ায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃশ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার কাছে এসব ছবি ও তথ্য পাড়ার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তৈরি একটি ব্যক্তিগত আর্কাইভের মতো।

মিরিয়াম বলেন, গসিপ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে তিনি শুধু দৈনন্দিন খরচই চালাননি, দুটি বাড়িও কিনতে পেরেছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি একটি বড় মাটির ব্যাংকও দেখান। সেখানে কয়েন ও কাগজের নোট রাখা ছিল। তার দাবি, গসিপ বিক্রি করে সাধারণত যে অর্থ আয় করেন, সেগুলোই ওই মাটির ব্যাংকে জমা রাখেন।

নিজের এই কাজের ব্যাপারে বেশ সিরিয়াস মিরিয়াম। তার দাবি, কোনো তথ্যের প্রমাণ না থাকলে তিনি তা ছড়ান না। পাড়ার প্রায় সবকিছু সম্পর্কে জানেন—এমন পরিচিতির কারণে তার ডাকনাম হয়েছে ‘গসিপের রানি’। নিজের কাজ সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘গসিপই আমার জীবন, এটা আমার রক্তে মিশে আছে।’

তবে মিরিয়ামের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেশীদের সবাই সন্তুষ্ট নন। কয়েকজন প্রতিবেশী তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ করেছেন। তাদের আপত্তি থাকলেও মিরিয়ামের দাবি, যারা একসময় তার কাজের সমালোচনা করতেন, তারাই পরে আশপাশে কী ঘটছে তা জানার কৌতূহল থেকে আবার তার কাছে ফিরে আসেন।

মিরিয়াম আরও জানান, তার এই ধরনের ব্যবসা অনুসরণ করার চেষ্টা করছেন আরও কয়েকজন। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা এবং মানুষের কর্মকাণ্ড ও কথাবার্তা থেকে তথ্য সংগ্রহের দক্ষতার কারণে নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তিনি।

/এসএন