• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ পিএম


অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের স্কুলে হিজাব নিষিদ্ধ

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭:৩৯ পিএম

অস্ট্রিয়ায় স্কুলে ১৪ বছরের কম বয়সীদের হিজাব নিষিদ্ধনতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে অস্ট্রিয়ায় ১৪ বছরের কম বয়সী মেয়েদের স্কুলে মাথা ঢাকার কাপড় পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনের আওতায় দেশটির সরকারি ও বেসরকারি সব স্কুলে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম মাথা ঢাকার পোশাক, যেমন হিজাব বা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।রক্ষণশীল পিপলস পার্টি (ওভিপি) থেকে আসা দেশটির একীভূতকরণবিষয়ক মন্ত্রী ক্লডিয়া বাউয়ার বলেন, হিজাব ‘নিপীড়নের প্রতীক এবং শৈশবের শুরু থেকেই মেয়েদের নিয়ন্ত্রণের একটি মাধ্যম।’

তবে সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই আইন অস্ট্রিয়ায় মুসলিমবিরোধী মনোভাব উসকে দিচ্ছে এবং এটি অসাংবিধানিকও হতে পারে।দেশটির রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন তিন মধ্যপন্থী দলের জোট—ওভিপি, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটস (এসপিও) এবং উদারপন্থী নিওস—আইনটি প্রণয়ন করেছে। দলগুলোর দাবি, এটি ‘লিঙ্গসমতার প্রতি সুস্পষ্ট অঙ্গীকার’ এবং তরুণীদের অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।অস্ট্রিয়ার সরকারি ইসলামিক কমিউনিটির (আইজিজিও) কার্লা আমিনা বাগাজাতি বিবিসিকে বলেন, তারা ‘এই নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা’ করছেন। তার ভাষ্য, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার মৌলিক অধিকারকে অযৌক্তিকভাবে সীমিত করে এবং মুসলিম মেয়েদের ওপর অসমভাবে প্রভাব ফেলে।এর আগে ২০২০ সালে অস্ট্রিয়ার সাংবিধানিক আদালত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হিজাব নিষিদ্ধ করার একটি আইন বাতিল করেছিল।

আদালতের যুক্তি ছিল, ওই নিষেধাজ্ঞা অস্ট্রিয়ার ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।এবারের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার দায়িত্ব শিক্ষকদের ওপর দেওয়া হয়েছে। কোনো শিক্ষার্থীকে হিজাব পরা অবস্থায় দেখা গেলে শিক্ষককে ওই শিক্ষার্থী এবং তার আইনগত অভিভাবকের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা করতে হবে। এরপরও আইন লঙ্ঘন অব্যাহত থাকলে বিষয়টি শিশু সেবা বিভাগকে জানানো হবে।সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে আইন ভঙ্গের দায়ে অভিভাবকদের সর্বোচ্চ ৮০০ ইউরো জরিমানা হতে পারে।এদিকে দেশটির বিরোধী উগ্র ডানপন্থী দল ফ্রিডম পার্টি (এফপিও) বলছে, বর্তমান নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়। দলটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য স্কুলে হিজাব এবং মুখঢাকা পোশাক—দুটির ওপরই পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞার দাবি জানিয়েছে।এফপিওর রিকার্ডা বার্গার বলেন, ‘অস্ট্রিয়ায় রাজনৈতিক ইসলামের কোনো স্থান নেই, আর আমাদের স্কুলগুলোতে তো অবশ্যই নয়।’

/বিএসএস