• ঢাকা
  • শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম


ইরানের সঙ্গে সকল বাণিজ্য-আর্থিক কার্যক্রম স্থগিত করল সংযুক্ত আরব আমিরাত

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ৪:০৫ পিএম

ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তেহরানের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য, বাণিজ্যিক লেনদেন এবং আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে দেশটি।

আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, চলমান উত্তেজনা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি এবং নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক ও আর্থিক সম্পর্কের গুরুত্ব অনেক বেশি। ফলে আমিরাতের নেওয়া এই সিদ্ধান্ত তেহরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন জেনারেল ও সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক কিমিট মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার তুলনায় আমিরাতের এই পদক্ষেপ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারণ, ইরানের অর্থনীতি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বিশেষ করে দুবাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

কিমিট আল জাজিরাকে বলেন, ইরানের সঙ্গে দুবাইয়ের পণ্য ও আর্থিক লেনদেনের গুরুত্ব কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। ইরানে আমদানি করা পণ্যের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী হচ্ছে দুবাই ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই ক্ষেত্রে চীন ও তুরস্কও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে রয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের মোট আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাধ্যমে আসে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে দুবাইয়ের ভূমিকা ইরানকে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে বাণিজ্য ও আর্থিক লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।

কিমিট বলেন, ‘অনেক দিক থেকেই আমিরাতের এই নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

ইরানের হামলা অব্যাহত থাকলে অন্যান্য উপসাগরীয় দেশও আমিরাতের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে পারে কি না—এ বিষয়ে কিমিট বলেন, তার ধারণা, এসব দেশ আপাতত পরিস্থিতি সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

তিনি বলেন, ‘আমিরাত ও ইরানের মধ্যে কী ঘটে, সেটিই এখন সবাই দেখবে এবং অপেক্ষা করবে।’

কিমিটের মতে, আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ইরানের কাছে অত্যন্ত গুরুতর একটি বার্তা বহন করছে। এমনকি তেহরান এটিকে যুদ্ধ ঘোষণার কাছাকাছি কোনো পদক্ষেপ হিসেবেও বিবেচনা করতে পারে। এ প্রসঙ্গে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপের সঙ্গে বিষয়টির তুলনা করেন।

/এসএন