ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের ২৯ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বেইলি নামের একটি পোষ্য কুকুরকে। প্রায় এক মাস খাবার ও পানি ছাড়াই কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর তার জীবিত উদ্ধার হওয়ায় বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে উদ্ধারকর্মীরা বেইলিকে খুঁজে পান। প্রায় এক মাস পরও তার বেঁচে থাকাকে উদ্ধারকর্মী ও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিরা ‘অলৌকিক’ বলেই উল্লেখ করেছেন।
গত জুনের শেষ সপ্তাহে ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই দুর্যোগে অসংখ্য ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যায় এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কোনো জীবিত প্রাণের সন্ধান পাওয়া যাবে না বলে যখন উদ্ধারকারীরা প্রায় আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন, ঠিক তখনই বেইলিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া যায়।
উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধুলাবালিতে ঢাকা অবস্থায় কুকুরটিকে তার মালিকের মৃত মায়ের মায়ের (দাদি) মরদেহের পাশে গুটিসুটি মেরে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘ ২৯ দিন ধরে সে নিজের ছোট মালিকের দাদির নিথর দেহের পাশেই আশ্রয় নিয়ে বেঁচে ছিল।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, দীর্ঘ ২৯ দিনের দুর্বিষহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও বর্তমানে বেইলির শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। ভেটেরিনারি চিকিৎসার মাধ্যমে সে দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছে।
এই ভূমিকম্পে ১১ বছর বয়সী ভিক্টোরিয়া তার মা ও দাদিকে হারিয়েছে। বেইলির চিকিৎসায় যুক্ত পশুচিকিৎসক মিরনা বলেন, “এটা সত্যিই একটা অলৌকিক ঘটনা, তার সঙ্গে যা কিছু ঘটেছে, সবই অলৌকিক। তার চোখে কিছু ঘা হয়েছে, কিন্তু সে শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবে।”
ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে উদ্ধার অভিযানের আবেগঘন মুহূর্ত ধরা পড়ে। সেখানে দেখা যায়, দৃশ্যত শীর্ণ ও পানিশূন্য বেইলিকে উদ্ধার করার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তাকে সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করান। পরে চিকিৎসা দলের সদস্যরা জরুরি ভিত্তিতে তাকে স্যালাইন দেন।
গত ২৪ জুন উত্তর ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই দুর্যোগে প্রায় ৫,০০০ মানুষ প্রাণ হারান, শত শত ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, এ ভূমিকম্পে প্রত্যক্ষ ভৌত ক্ষতির পরিমাণ ছিল ১৯.৬ বিলিয়ন ডলার।
/এসএন