• ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৩ এএম


চীনে একের পর এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ,

টর্নেডো-ঝড়ে বিধ্বস্ত চীন, প্রাণহানি ১৭; নতুন আতঙ্ক সুপার টাইফুন বাভি

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ৮ জুলাই ২০২৬ ১২:০৫ পিএম

চীনের মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী টর্নেডো ও প্রবল ঝড়ে অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ। পাশাপাশি কয়েক লাখ বাসিন্দা দুর্যোগের প্রভাবের মধ্যে পড়েছেন। এরই মধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূলের দিকে দ্রুত ধেয়ে আসছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’, যা চলমান পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ‘পুরোদমে উদ্ধারকাজ চালানোর’ নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে চীনের দক্ষিণাঞ্চলের গুয়াংসি প্রদেশে টাইফুন মাইসাক-এর প্রভাবে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনও ১১ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

এ ছাড়া গুয়াংসির অন্তত ৪০টি নদী ও জলপথ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সেখানে বন্যার সর্বোচ্চ রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও তীব্র দমকা হাওয়ার কারণে অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৩০০ জনের বেশি মানুষ। এছাড়া একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগে প্রায় ৫ হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২২টি ভবন সম্পূর্ণভাবে ধসে পড়েছে।

রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, হুবেই প্রদেশের হুয়াংগাং শহরে একটি বিরল শক্তিশালী টর্নেডো আঘাত হানে। এতে একটি লজিস্টিকস কোম্পানি ও একটি গুদাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রবল ঘূর্ণিবাতাসের তোড়ে কয়েকটি ট্রাক প্রায় ৩০ মিটার পর্যন্ত আকাশে উঠে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ঝড়ের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যে ঘরের আসবাবপত্র উড়ে যেতে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে বহু মানুষ দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যান।

এদিকে সুপার টাইফুন বাভি দ্রুত চীনের পূর্ব উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত টাইফুনটির স্থায়ী বাতাসের গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ২৪১ কিলোমিটার।

সিনহুয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বৃহস্পতিবার সুপার টাইফুনটি চীনের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানতে পারে। এর আগে বাভির প্রভাবে গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রোটা দ্বীপে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

/এসএন