দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়া যাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ঘিরে একটি বিশেষ ভিডিও প্রকাশ করেছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। ভিডিওটিতে আবহ সঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে হাবিব ওয়াহিদ ও মেহরনিগরি রুস্তামের গাওয়া জনপ্রিয় গান ‘মহাজাদু’।
মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়। প্রকাশের মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই ভিডিওটি ৯ লাখের বেশি বার দেখা হয়।
প্রায় ২ মিনিট ৪০ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ভিডিওটিতে দুই দেশের সরকারপ্রধানের বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ সফরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত তুলে ধরা হয়েছে। পুরো ভিডিওজুড়ে ‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’ গানটি বাজতে শোনা যায়। এর মাঝেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের অংশও সংযুক্ত করা হয়েছে।
ভিডিওতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বক্তব্য দিতে দেখা যায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে। সেখানে তিনি বলেন, “অবশ্যই, যৌথ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশ এবং এখানে (মালয়েশিয়ায়) থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সংকট সমাধানের চেষ্টা করব।”
তিনি আরও বলেন, “একইসঙ্গে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কার্যালয় এবং আসিয়ানের মাধ্যমে আমরা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করব, যাতে এই সমস্যার আংশিক সমাধান করা যায়।”
রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেওয়া এই বক্তব্যের সময়ও ভিডিওতে ‘মহাজাদু’ গানটি আবহ সঙ্গীত হিসেবে চলতে থাকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার গঠনের চার মাস পর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে গত রোববার মালয়েশিয়ায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দিনের সফর শেষে সোমবার তিনি চীনের তালিয়ান শহরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
এদিকে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রাজায়ায় সোমবার অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জিয়া পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন আনোয়ার ইব্রাহিম।
তিনি বলেন, “আমরা সৌভাগ্যবান যে, আপনার প্রয়াত বাবা ও মায়ের সঙ্গে আমাদের পরিচয় ছিল। আমি তাকে (তারেক রহমানকে) আমার প্রথম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছি—যখন আমি একজন যুবনেতা হিসেবে মৌচাক ক্যাম্পে তার বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম।”
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “আর তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রয়াত মায়ের সঙ্গেও বেশ কয়েকবার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে আমার দেখা হয়েছিল।”
তার বক্তব্যে তিনি আরও যোগ করেন, “এর চেয়েও বড় কথা হলো, ভাই তারেক রহমান এবং তার পরিবার চরম কষ্ট ও সংগ্রাম সহ্য করেছেন। তিনি নিজের দেশের মানুষকে গভীরভাবে ভালোবাসেন এবং তাদের স্বাধীনতা ও উন্নতির পক্ষে নিজের আদর্শে সবসময় অবিচল থেকেছেন।”
/এসএন