• ঢাকা
  • বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ এএম


ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন নির্লিপ্ত: সাদিক কায়েম

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮:২১ পিএম

আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। ডাকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, এর পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করা হলে বর্তমান কমিটির মেয়াদ আরও তিন মাস বাড়বে। সে হিসেবে তফসিল ঘোষণা না হলে আগামী ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবে বর্তমান কমিটি।

তবে পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। তার অভিযোগ, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও প্রশাসন এতে সাড়া দিচ্ছে না।

ডাকসু নির্বাচনকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ক্যালেন্ডারে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রথম কার্যনির্বাহী সভায় একটি খসড়া প্রস্তাব তোলা হয়েছিল। তবে সেই প্রস্তাব এখনো বাস্তবায়ন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য তারা বারবার অনুরোধ করেছেন, কিন্তু প্রশাসন বিষয়টিতে কর্ণপাত করছে না। তিনি আশা করেন, বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ডাকসুর চলমান কার্যক্রমগুলো বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এগিয়ে নেবে।

নিয়মিত নির্বাচন চাওয়ার কথা উল্লেখ করে সাদিক কায়েম আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশে দেখতে পাই, ক্ষমতা পেলে আর ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। আর আমরা যারা আছি, আমরা কেউ এখানে ক্ষমতার চেয়ারে বসে থাকতে চাই না। আমরা চাই, নির্বাচন নিয়মিত হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা এই ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে। যে অগ্রগতি দেখার কথা, সেটা আমরা দেখিনি। ডাকসু নির্বাচন-পরবর্তী নির্বাচনের জন্য ১ হাজার ৩১ কোটি টাকার যে বাজেট দরকার, সেটি তারা রাখেনি।’

তিনি দ্রুত নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পাশাপাশি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও দাবি জানান।

এদিকে ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের সাবেক জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, নির্বাচন যখনই অনুষ্ঠিত হোক, সেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যখনই নির্বাচন হোক, সেই নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের আশা-প্রত্যাশা থাকবে, আগামীতে যে ডাকসু নির্বাচন হবে, সেই ডাকসু নির্বাচন যেন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু এবং প্রশ্নবিহীন ডাকসু হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ডাকসু সভাপতি ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানিয়েছেন, সব ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময় জানাননি।

উপাচার্য বলেন, ‘সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। আমরা সরকারের মহলে কথা বলেছি। তারা বলেছেন, হ্যাঁ, প্রক্রিয়া হাতে নাও। তা হাতে নিয়েছি; পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলব। সব ছাত্রসংগঠন একসঙ্গে বসে, এক টেবিলে বসে, তাদেরকে আনতে পারলেই আমার সেটা সাকসেস।’

এক বছর আগে ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছিল। এবারও নতুন করে সেই নির্বাচনী উৎসবের অপেক্ষায় রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরুর কথা জানিয়েছে। তবে সেই প্রক্রিয়া কবে চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং পরবর্তী ডাকসু নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

/এসএন