সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং পুষ্টি নিশ্চিত করতে চালু হওয়া ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচির খাবার নিয়ে শ্রীমঙ্গলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা বনরুটির ভেতর সুই ও ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকেরা। পরপর দুটি ঘটনায় শিশুদের খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার রাজঘাট ইউনিয়নের কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর বনরুটির ভেতর দুটি লম্বা সুই পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর দুই দিন আগে একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বনরুটির মধ্যে একটি ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করে।
কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রীতি শুক্ল বৈদ্য স্কুল থেকে পাওয়া বনরুটি বাড়িতে নিয়ে যায়। ছোট বোনের সঙ্গে ভাগ করে খাওয়ার জন্য প্যাকেট খোলার পর রুটির মাঝ বরাবর দুটি সুই দেখতে পাওয়ার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
প্রীতির বাবা কার্তিক বৈদ্য বলেন, কয়েক দিন আগে পাশের টিপড়াছড়া বিদ্যালয়ে বনরুটির ভেতর ব্লেড পাওয়ার অভিযোগের ঘটনা জানতে পেরে তিনি সন্তানদের রুটি পরীক্ষা করে খেতে বলেছিলেন। বৃহস্পতিবার মেয়ে বনরুটি নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর তিনি প্যাকেট খুলে রুটির ভেতরে একটি পুরোনো এবং একটি তুলনামূলক নতুন সুই দেখতে পান।
কার্তিক বৈদ্য বলেন, প্যাকেট না খুলে তার মেয়ে নিজে রুটি খেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য বৈশিষ্ট গোয়ালা ও প্রতিবেশীদের জানানো হয়। পরে ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় কয়েকজন বনরুটিটি বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কাছে অভিযোগ করেন।
স্থানীয় চা-শ্রমিক রবি বোনার্জি বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং প্যাকেট খোলার পর রুটির মধ্যে দুটি সুই দেখতে পান। পরে বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে জানানো হয়।
শিক্ষার্থীর মা শোভা শুক্ল বৈদ্য বলেন, শিশুদের খাবারের মধ্যে সুই পাওয়ার ঘটনায় তারা আতঙ্কিত। তার মেয়ে বিষয়টি বুঝতে না পেরে রুটিটি খেয়ে ফেললে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে শাস্তির দাবি জানান।
রাজঘাট ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য বৈশিষ্ট গোয়ালা বলেন, শিশুদের খাবারে এ ধরনের বস্তু পাওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনওকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কেজুরিছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুরেন্দ্র তাতী বলেন, বৃহস্পতিবার এক অভিভাবক ও স্থানীয় ইউপি সদস্য বনরুটিটি বিদ্যালয়ে এনে দেখান। তাদের দাবি, রুটির মাঝ বরাবর দুটি সুই পাওয়া গেছে। পরে বিষয়টি প্রধান শিক্ষকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমা রানী দেব ছুটিতে রয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। পরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও বিষয়টি অবহিত করেছেন।
এর আগে গত সোমবার একই ইউনিয়নের টিপড়াছড়া চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বনরুটির ভেতর একটি ধারালো ব্লেড পাওয়ার অভিযোগ করে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন।
টিপড়াছড়া চা-বাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুধন বুনার্জি জানান, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
পরপর দুটি বিদ্যালয়ের সরবরাহ করা বনরুটির ভেতর ধারালো বস্তু পাওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকেরা বিষয়টির যথাযথ তদন্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
/এএসএফ