• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩০ পিএম


‘৭১’-এর চেয়ে ‘২৪’ ভারী! রাবির প্রদর্শনীতে চিত্রকর্ম ঘিরে বিতর্ক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১০ আগস্ট ২০২৬ ৬:২৮ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনীতে একটি শিল্পকর্মকে কেন্দ্র করে সমালোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই চিত্রকর্মে দাঁড়িপাল্লার এক পাশে ‘৭১’ এবং অন্য পাশে ‘২৪’ লেখা রয়েছে। ‘২৪’ লেখা পাল্লাটি নিচের দিকে ঝুঁকে থাকায় সমালোচকদের অভিযোগ, এর মাধ্যমে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের তুলনায় ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান: রঙ-তুলিতে মুক্ত স্বদেশ’ শিরোনামে তিন দিনব্যাপী এই চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন শুরু হয়। প্রদর্শনীতে থাকা ওই শিল্পকর্মটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে শিল্পকর্মটির শিল্পী সমালোচনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের পর থেকেই একটি গোষ্ঠী চব্বিশকে একাত্তরের মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে আসছে। আমার কাজটিকে সে অর্থে দেখা ঠিক হবে না; এটি অলংকারিক উপস্থাপন। আমি মূলত একাত্তরের সঙ্গে চব্বিশের এই অসম তুলনাটিকে বুঝাতে চেয়েছি।’

চিত্রকর্মটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারাও। সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘১৯৭১ আর ২০২৪-কে মুখোমুখি দাঁড় করানোর চেষ্টা দেশের ঐক্য নষ্ট করতে পারে।’ তার মতে, এ ধরনের প্রবণতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত শক্তিরই লাভ করে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের ভিত্তির ইতিহাস। ২০২৪ সাল দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কিন্তু ১৯৭১-কে ছোট করে ২০২৪-কে বড় করার দরকার নেই। একটি ইতিহাসকে অপমান করে আরেকটি ইতিহাস প্রতিষ্ঠা করা ঠিক নয়।’

ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান বলেন, ‘১৯৭১ আর ২০২৪ ভিন্ন সময় ও ভিন্ন বাস্তবতার ঘটনা। আমরা এই দুই ঘটনাকে একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখতে চাই না। বরং দুই ইতিহাস থেকেই শিক্ষা নিয়ে সামনে এগোতে চাই।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রদর্শনীটি চারুকলা অনুষদের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। জনসংযোগ দপ্তরের কাজ ছিল শুধু সিনেট ভবনের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া। ছবিগুলোর বিষয়বস্তু সম্পর্কে তাদের কিছু জানা ছিল না।’

চিত্রকর্মটির শিল্পী সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে প্রদর্শনীর জন্য শিল্পকর্ম বাছাই করা হয়েছে। এ বাছাই প্রক্রিয়ার দায়িত্বে ছিলেন মৃৎশিল্প ও ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম।

অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, ‘ডিনের অনুপস্থিতিতে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।’ তিনি আরও জানান, তিনি কেবল একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং প্রদর্শনীর জন্য পাঠানো ছবিগুলো যাচাই করা হয়নি।

অন্যদিকে, চিত্রকর্মটি সম্পর্কে জানতে চাইলে চারুকলা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ আলী জানান, সেদিন তিনি ক্যাম্পাসে উপস্থিত ছিলেন না। ফলে ওই ছবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। এমনকি প্রদর্শনীতে থাকা ছবিগুলো দেখার সুযোগও তাঁর হয়নি বলে জানান তিনি।

/এসএন