আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলার ও জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এর প্রভাবে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা জোরালো হয়েছে, যা মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) উচ্চ সুদের হার নীতি আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে পরিচিত সোনার দাম সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
বাজারসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৯৮ দশমিক ৮৯ ডলারে নেমে এসেছে। এর আগে শুক্রবার সোনার দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছিল।
মে মাসজুড়ে সোনার দাম কমেছে শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ, যা টানা চতুর্থ মাসের মতো দরপতনের রেকর্ড।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫২৮ দশমিক ৯০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনা কেনা তুলনামূলক ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। ফলে চাহিদা কমে গিয়ে দামে চাপ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভট্রেডসের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা বলেন, হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় তেলের বাজার আবারও উত্তপ্ত হয়েছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং ফেড সুদের হার কমানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ এখন ধারণা করছেন চলতি বছরের ডিসেম্বর নাগাদ ফেড আরও ২৫ বেসিস পয়েন্ট সুদের হার বাড়াতে পারে।
এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারে দেখা গেছে মিশ্র প্রবণতা। রুপার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৫ দশমিক ৭৯ ডলারে উঠেছে। প্ল্যাটিনামের দাম বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯২৫ দশমিক ২৬ ডলার। তবে প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৪৩ দশমিক ৫৫ ডলারে নেমেছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১২১ টাকা দরে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত আগামী কয়েক সপ্তাহে স্বর্ণবাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
/এএসএফ