• ঢাকা
  • শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম


তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ২ জুন ২০২৬ ৯:৫৩ পিএম

দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবারও বড় ধরনের বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায়।

এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ—এই তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ শেষে দেশের ৬১টি তফসিলি ব্যাংকে মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা। তিন মাসের ব্যবধানে এই ঋণের পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ খেলাপি ঋণে পরিণত হয়েছে, যা ব্যাংকিং খাতের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতেই খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি। এসব ব্যাংকে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৪৬ শতাংশ। যদিও আগের প্রান্তিকের তুলনায় জানুয়ারি–মার্চ সময়ে এ হার কিছুটা কমেছে, তবুও খেলাপি ঋণের মোট পরিমাণ এখনও অনেক বেশি।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৬ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত কয়েক বছর ধরে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। ২০০৯ সালে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৪ সালের জুন মাসে ২ লাখ ১১ হাজার ৩৯১ কোটি টাকায় পৌঁছে।

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, দুর্নীতি, ঋণ জালিয়াতি এবং বড় বড় করপোরেট গোষ্ঠীর ঋণ পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের মতে, বিশেষ করে কয়েকটি বড় ব্যবসায়িক গ্রুপ এবং কিছু ব্যাংকে সংঘটিত অনিয়মের ঘটনা খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খেলাপি ঋণের লাগাম টেনে ধরতে কার্যকর নজরদারি, জবাবদিহিতা বৃদ্ধি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

/এসএন