• ঢাকা
  • রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ এএম


রাস্তার আন্দোলনে নয়, আইন মেনেই হবে ইসলামী ব্যাংক বিষয়ে সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ব্যাংক

দি পালস বিডি অনলাইন ডেস্ক
আপডেট টাইম: ১ জুন ২০২৬ ৯:১৫ পিএম

দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও গ্রাহকদের বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও প্রধান মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেছেন, কোনো ব্যাংকের প্রশাসনিক বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত রাস্তার আন্দোলনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না।

সোমবার (১ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী যে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিক্ষোভ করার এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়ায় প্রতিকার চাওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক কোনো আবেগ, বাইরের চাপ বা আন্দোলনের ভিত্তিতে নয়; বরং আমানতকারীদের স্বার্থ এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের বিধান অনুসারেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

ব্যাংকিং খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি কোনোভাবেই ব্যাংকের পরিচালক বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারেন না। সম্প্রতি ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এক ব্যক্তির নামে প্রায় তিন কোটি টাকার খেলাপি ঋণ থাকার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব পরিদর্শনে উঠে আসা বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী খেলাপি অবস্থায় কারও পরিচালক পদে থাকার সুযোগ নেই। নতুন কোনো নিয়োগের আগে এ ধরনের বিষয়গুলো কঠোরভাবে যাচাই করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতি এবং নতুন চেয়ারম্যানকে ঘিরে চলমান বিরোধের প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার কারণে আসন্ন বোর্ড সভা সশরীরে না করে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমের মাধ্যমে আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভবনের বাইরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পুলিশের হলেও ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বর্তমান গভর্নরের অবস্থান তুলে ধরে মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কিংবা দেশের কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা কোনো ধরনের মাস্তানি বরদাস্ত করা হবে না। ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনের সময় কোনো রাজনৈতিক বা অদৃশ্য চাপের মুখে পড়লে তা সরাসরি গভর্নরকে জানাতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে গভর্নর নিজেই বিষয়টি মোকাবিলা করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কোনো ব্যাংককে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতার সমালোচনা করে আরিফ হোসেন খান বলেন, এটি কোনোভাবেই সঠিক নয়। তার মতে, একটি ব্যাংক যদি অতিরিক্তভাবে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাহলে তা প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও টেকসই পরিচালনার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা ও বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যালোচনা করছে কোনো ব্যাংক বিশেষ কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সংকটে পরিণত হচ্ছে কি না। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান হলো, দেশের কোনো ব্যাংকই কোনো রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। এ ধরনের রাজনৈতিক পরিচয় একটি ব্যাংকের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

/এসএন